গুজব প্রতিরোধে রাজশাহীতে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং গুজব প্রতিরোধে রাজশাহীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনা কিংবা মজুদ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল ৩টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপী শহিদুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সবুর আলী।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিৎ সরকার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বোরহান উদ্দিন অন্তর, জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পের মালিক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের কোথাও জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের সংকট নেই। তাই গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি তেল কেনা বা মজুদ করলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। তিনি সবাইকে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সচেতন আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা আতঙ্ক ছড়ানো কিংবা অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা আতঙ্ক ছড়ানো কিংবা অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা থেকে বিরত থেকে সবাইকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।
সভায় জ্বালানি তেলের বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় পেট্রোল পাম্প মালিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানানো হয়, গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুদ থেকে বিরত থেকে সচেতনতা, সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।