দুর্গাপুরে শিশু হুমায়রা মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চার বছর বয়সী শিশু হুমায়রা জান্নাতের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাড়ির কাছ থেকে প্রায় ২০ হাত দূরে একটি খেজুরগাছতলার পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।
নিহত হুমায়রা ওই এলাকার ফার্মেসি ব্যবসায়ী হাসিবুল হোসেন শান্তর মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে হুমায়রা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ওই সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন শিশু খেলছিল। এরপর পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রাও রাতভর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালালেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন শনিবার সকাল ৮টার দিকে শিশুটির বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েকে জীবিত বা সন্ধান দিতে পারলে ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন। কয়েক ঘণ্টা পরই দুপুরে বাড়ির পাশের খেজুরগাছতলার কাছ থেকে হুমায়রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মেয়ের মৃত্যু নিয়ে বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তার দাবি, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মৃত্যুর আগে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, শিশুটির শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পেট ফোলা এবং বাম হাতে ছোট ছোট জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, শিশুটির নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছিল। পরে বাড়ির পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।