সোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজশাহীচারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী

চারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
চারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা-সংলগ্ন চারঘাটের সারদাহ বাজার এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাবলিক টয়লেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে খোলা জায়গা ও সড়কের পাশে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন সাধারণ মানুষ। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে পৌরসভার ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী উজ্জ্বল জোয়ার্দার বলেন, পৌরসভার চারটি টয়লেটই অকেজো। মানুষ বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় টয়লেট করছে। এতে বাইরের লোকজনের কাছে আমাদের এলাকার ইমেজ নষ্ট হচ্ছে এবং বাজারে ক্রেতা কমে যাচ্ছে।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চারঘাটে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর অধিকাংশই তালাবদ্ধ বা ব্যবহার অনুপযোগী। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোও অপরিচ্ছন্ন, পানির সংযোগহীন এবং দুর্গন্ধে ভরপুর। ফলে নাগরিকরা সেগুলো ব্যবহার করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

১৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, বাসস্ট্যান্ড, পৌর মার্কেট ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরেই এসব টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো এখন কার্যত অকার্যকর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সারদাহ বাজারের দুটি টয়লেট তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এর একটি টয়লেটের সামনে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ খোলা জায়গায় টয়লেট সারছেন। একই চিত্র ট্রাফিক মোড়, কাঁকড়ামাড়ী বাজার ও ক্যাডেট কলেজ মোড় এলাকাতেও।

স্থানীয় এনজিওকর্মী রোকসানা পারভীন অভিযোগ করে বলেন,নারীদের জন্য উপযুক্ত টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, কিন্তু নাগরিকরা কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ইউজিআইআইপি-৩ (তৃতীয় নগরায়ণ) প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছয়টি টয়লেট নির্মাণে প্রতিটিতে ব্যয় হয় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও দুটি টয়লেট নির্মাণে প্রতিটির পেছনে ব্যয় হয় ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু নির্মাণের অল্প কিছুদিন পরই অধিকাংশ টয়লেট অচল হয়ে পড়ে।


এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব ও যথাযথ সমন্বয় না থাকায় প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বড়াল নদীর জায়গা দখল করে অল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক টয়লেট নির্মাণ করাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুরো পৌর এলাকা এখন যেন উন্মুক্ত টয়লেটে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চারঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার অন্যতম শর্ত হচ্ছে পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন নিশ্চিত করা। কিন্তু অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে এসব টয়লেট এখন সাদা হাতি প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, পৌরবাসীর প্রয়োজন বিবেচনায় টয়লেটগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে পরিষ্কার করা হয়েছিল। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও (সহকারী কমিশনার ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত টয়লেটগুলো সচল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে জনদুর্ভোগ কমবে এবং পৌরসভার ভাবমূর্তিও পুনরুদ্ধার হবে।

চারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উপচার
 সোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬
হোমরাজশাহীচারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী

চারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
চারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা-সংলগ্ন চারঘাটের সারদাহ বাজার এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাবলিক টয়লেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে খোলা জায়গা ও সড়কের পাশে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন সাধারণ মানুষ। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে পৌরসভার ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী উজ্জ্বল জোয়ার্দার বলেন, পৌরসভার চারটি টয়লেটই অকেজো। মানুষ বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় টয়লেট করছে। এতে বাইরের লোকজনের কাছে আমাদের এলাকার ইমেজ নষ্ট হচ্ছে এবং বাজারে ক্রেতা কমে যাচ্ছে।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চারঘাটে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর অধিকাংশই তালাবদ্ধ বা ব্যবহার অনুপযোগী। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোও অপরিচ্ছন্ন, পানির সংযোগহীন এবং দুর্গন্ধে ভরপুর। ফলে নাগরিকরা সেগুলো ব্যবহার করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

১৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, বাসস্ট্যান্ড, পৌর মার্কেট ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘিরেই এসব টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো এখন কার্যত অকার্যকর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সারদাহ বাজারের দুটি টয়লেট তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এর একটি টয়লেটের সামনে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ খোলা জায়গায় টয়লেট সারছেন। একই চিত্র ট্রাফিক মোড়, কাঁকড়ামাড়ী বাজার ও ক্যাডেট কলেজ মোড় এলাকাতেও।

স্থানীয় এনজিওকর্মী রোকসানা পারভীন অভিযোগ করে বলেন,নারীদের জন্য উপযুক্ত টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। নামেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, কিন্তু নাগরিকরা কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ইউজিআইআইপি-৩ (তৃতীয় নগরায়ণ) প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছয়টি টয়লেট নির্মাণে প্রতিটিতে ব্যয় হয় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে ২০২১-২২ অর্থবছরে আরও দুটি টয়লেট নির্মাণে প্রতিটির পেছনে ব্যয় হয় ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু নির্মাণের অল্প কিছুদিন পরই অধিকাংশ টয়লেট অচল হয়ে পড়ে।


এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব ও যথাযথ সমন্বয় না থাকায় প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বড়াল নদীর জায়গা দখল করে অল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিক টয়লেট নির্মাণ করাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুরো পৌর এলাকা এখন যেন উন্মুক্ত টয়লেটে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চারঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভার অন্যতম শর্ত হচ্ছে পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন নিশ্চিত করা। কিন্তু অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে এসব টয়লেট এখন সাদা হাতি প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, পৌরবাসীর প্রয়োজন বিবেচনায় টয়লেটগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে পরিষ্কার করা হয়েছিল। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও (সহকারী কমিশনার ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত টয়লেটগুলো সচল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে জনদুর্ভোগ কমবে এবং পৌরসভার ভাবমূর্তিও পুনরুদ্ধার হবে।

চারঘাটে কোটি টাকার পাবলিক টয়লেট অচল, খোলা জায়গায় মানববর্জ্য—দুর্ভোগে পৌরবাসী
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ এপ্রিল ২০২৬