রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের যোগদান
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে গতকাল ১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জনাব আল মামুন। তিনি এর আগে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ একই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্ব পালনকালে তার একটি মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে সারাদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দী থাকা এক বাবা-আনোয়ার পারভেজ-তার ১৪ বছর বয়সী সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়েন। নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মুক্তি অনিশ্চিত থাকলেও বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন দ্রুত কারা মহাপরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর রাতেই ওই বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়, যাতে তিনি তার সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে পারেন। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং কারা প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কর্মকর্তা হিসেবে আল মামুনের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও তার আগমন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। তারা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান আরও উন্নত হবে।
কারাগার ব্যবস্থাপনায় একজন দক্ষ সিনিয়র জেল সুপার সাধারণত যেসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-কারাবন্দীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য ব্যবস্থা, আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার, এবং বন্দীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম চালু করা। পাশাপাশি বন্দীদের মানসিক সুস্থতার জন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা, সাক্ষাৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করাও একজন দায়িত্বশীল জেল সুপারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আল মামুন তার পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেও এসব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবেন। বিশেষ করে বন্দীদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার যে মানসিকতা তিনি ইতোমধ্যে দেখিয়েছেন, তা এখানেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সন্তান আল মামুন একজন নম্র, ভদ্র ও বিচক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। দায়িত্ব পালনে তিনি মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে আসছেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, তার নেতৃত্বে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার একটি আধুনিক, মানবিক ও সুশাসনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।