একক শক্তির পরীক্ষায় এনসিপি, বাধা নেই স্থানীয় সমঝোতায়
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় না গিয়ে নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার আলোকে কোনো এলাকায় স্থানীয়ভাবে সমঝোতা গড়ে উঠলে দলটির কেন্দ্র তাতে বাধা দেবে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে ওঠা তরুণদের এই নতুন রাজনৈতিক দলটি মূলত তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করতেই এমন কৌশল গ্রহণ করেছে।
ইতোমধ্যেই প্রথম ধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে প্রার্থী বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে এনসিপি। দলটির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা কমিটি মাঠের প্রভাবশালী ও গ্রহণযোগ্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করে কেন্দ্রে পাঠানোর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। প্রাথমিক তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে চলতি মাসের মধ্যেই দেশের সবকটি ইউনিয়নের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই; বরং প্রথম ধাপের ভোটকে গুরুত্ব দিয়ে চলতি মাসেই কিছু সংখ্যক ইউনিয়নের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি ও দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার জানান, তৃণমূলের ভোটের বাস্তবতা সংসদীয় বা কেন্দ্রীয় রাজনীতির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে সামাজিক বন্ধন ও স্থানীয় প্রভাব বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশ চাপিয়ে সব জায়গায় জোটগত সমঝোতা বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তাই দলগুলো যার যার সাংগঠনিক শক্তিতে অংশ নেবে। তবে কোনো অঞ্চলের বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় নেতারা সমঝোতার প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্র তাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
প্রার্থী চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে জেলা কমিটিগুলোর প্রস্তাবনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে দলটি। প্রয়োজনে জেলা কমিটিগুলো নিজস্ব উদ্যোগেও একাধিক ইউনিয়নের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে ঘোষণা করতে পারবে। পাশাপাশি সারাদেশে দলের মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে রাজধানীতে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখান থেকে প্রার্থীদের নির্বাচনী দিকনির্দেশনা ও প্রচারণার রূপরেখা দেওয়া হবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরালো করলেও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে এনসিপি নেতৃত্ব। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার চেয়ে দলীয়করণের প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিয়ে প্রভাব বিস্তারের যে চেষ্টা চলছে, তা অগণতান্ত্রিক রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। এমন পরিস্থিতিতে কমিশন ভোটাধিকারের নিরাপত্তা দিতে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রবল সংশয় রয়েছে।