নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত পরিকল্পনা
সারাদেশের প্রতিটি প্রান্তে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানীয় জলের স্থায়ী সংস্থান নিশ্চিত করতে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত মেগা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের দোরগোড়ায় সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পানিকে জীবনের সমার্থক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, অনিরাপদ ও জীবাণুযুক্ত দূষিত পানি মানবস্বাস্থ্যের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং তা অনেক সময় অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন বাস্তবতায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ইউনিসেফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের উৎস নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশের পানিসম্পদ ও নদী অববাহিকার বর্তমান সংকট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উজানে ক্রমাগত পানি প্রত্যাহারের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ভারসাম্যে চরম বিপর্যয় নেমে আসছে। একদিকে প্রাকৃতিক পানির অভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে শুষ্কতা বেড়ে মরুকরণের প্রক্রিয়া স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে বঙ্গোপসাগরের নোনা পানি নদী ও ভূগর্ভস্থ স্তরে প্রবেশ করছে, যা উপকূলীয় জনপদে লবণাক্ততার ব্যাপক বিস্তার ঘটাচ্ছে। বিগত কয়েক দশক ধরে চলা এ পরিবেশগত বিপর্যয় দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য খাবার পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি করেছে। সামগ্রিক এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্যই ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।