মঙ্গলবার , ০৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারাদেশ › নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে
জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমান

নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে

favicon
উপচার ডেস্ক :-
নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে

শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন না ঘটলে সেই শিক্ষা সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে না এবং এর ফলেই উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অন্যায় ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে যারা জাতীয় সম্পদ বিদেশে পাচার করছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত রয়েছে, তারা প্রকৃত অর্থে সুশিক্ষিত নয় বরং কেবল কাগুজে সনদের অধিকারী। গতানুগতিক ও সনদমুখী শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে কখনো আলোকিত মানুষ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে একটি যুগোপযোগী ও আদর্শ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা এখন সময়ের জোরালো দাবি। কেবল আনুষ্ঠানিক দিবস উদযাপনে আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে তা রাষ্ট্রীয় নীতিতে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতি আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি বলেন, একজন চিকিৎসক বা প্রকৌশলী নির্দিষ্ট পরিসরে সেবা প্রদান করলেও একজন শিক্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ জাতি গঠনের স্থপতি। অথচ এই শিক্ষক সমাজই ঐতিহাসিকভাবে চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। আগামী দিনের বাংলাদেশে শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম বলেন, জাতি গঠনের মূল কারিগর হলেও আর্থিক দৈন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের কারণে বেশিরভাগ শিক্ষকের জীবন এখনও মানবেতর। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষকদের ওপর নানামুখী নিপীড়ন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশেও শিক্ষক সমাজের বহু ন্যায্য দাবি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া আবশ্যক।

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল মান্নান, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি ড. মাওলানা আব্দুস সবুর মাতব্বর ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের বিবেচনায় ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি অবিলম্বে জাতীয়করণ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার সাথে সংগতি রেখে অবসরের বয়স ৬৫ বছরে উন্নীত করা এবং চলতি অর্থবছরেই সরকারি নিয়মে শতভাগ বাড়িভাড়া, উৎসব ও চিকিৎসাভাতা প্রদান। এছাড়া অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের পাওনা অর্থ দ্রুত ছাড়করণ, যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রশাসনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সার্বিক বদলি নীতিমালা কার্যকর, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের আমলে রাজনৈতিক কারণে বরখাস্ত শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, নবম জাতীয় বেতন স্কেলে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষক নিয়োগ ও বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের দলীয়করণ সম্পূর্ণ বন্ধ করার জোর দাবি জানানো হয়।

নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে
জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমান
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৬ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ০৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারাদেশ › নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে
জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমান

নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে

favicon
উপচার ডেস্ক :-
নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে

শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন না ঘটলে সেই শিক্ষা সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারে না এবং এর ফলেই উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অন্যায় ও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে যারা জাতীয় সম্পদ বিদেশে পাচার করছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে যুক্ত রয়েছে, তারা প্রকৃত অর্থে সুশিক্ষিত নয় বরং কেবল কাগুজে সনদের অধিকারী। গতানুগতিক ও সনদমুখী শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে কখনো আলোকিত মানুষ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে একটি যুগোপযোগী ও আদর্শ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা এখন সময়ের জোরালো দাবি। কেবল আনুষ্ঠানিক দিবস উদযাপনে আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে তা রাষ্ট্রীয় নীতিতে দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতি আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি বলেন, একজন চিকিৎসক বা প্রকৌশলী নির্দিষ্ট পরিসরে সেবা প্রদান করলেও একজন শিক্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ জাতি গঠনের স্থপতি। অথচ এই শিক্ষক সমাজই ঐতিহাসিকভাবে চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। আগামী দিনের বাংলাদেশে শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম বলেন, জাতি গঠনের মূল কারিগর হলেও আর্থিক দৈন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের কারণে বেশিরভাগ শিক্ষকের জীবন এখনও মানবেতর। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষকদের ওপর নানামুখী নিপীড়ন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশেও শিক্ষক সমাজের বহু ন্যায্য দাবি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া আবশ্যক।

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল মান্নান, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি ড. মাওলানা আব্দুস সবুর মাতব্বর ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের বিবেচনায় ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি অবিলম্বে জাতীয়করণ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমার সাথে সংগতি রেখে অবসরের বয়স ৬৫ বছরে উন্নীত করা এবং চলতি অর্থবছরেই সরকারি নিয়মে শতভাগ বাড়িভাড়া, উৎসব ও চিকিৎসাভাতা প্রদান। এছাড়া অবসর সুবিধা ও কল্যাণ তহবিলের পাওনা অর্থ দ্রুত ছাড়করণ, যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রশাসনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের সার্বিক বদলি নীতিমালা কার্যকর, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের আমলে রাজনৈতিক কারণে বরখাস্ত শিক্ষকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, নবম জাতীয় বেতন স্কেলে শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষক নিয়োগ ও বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের দলীয়করণ সম্পূর্ণ বন্ধ করার জোর দাবি জানানো হয়।

নৈতিকতাহীন শিক্ষার কারণেই সমাজে শিক্ষিত অপরাধী তৈরি হচ্ছে
জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমান
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৬ অক্টোবর ২০২৬