রাজশাহীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরএমপির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উদ্যোগে এক বিশেষ সমন্বয় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার বিকেলে আরএমপি সদর দপ্তর সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএম। সভায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং মহানগরীর পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় প্রধান সমন্বয়কের বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, মহানগরের প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সম্প্রীতিপূর্ণ আবহ তৈরি করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন যেকোনো অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক ও রাজনৈতিক সমন্বয় টিমের সদস্যদের নাম-নম্বর পুলিশকে সরবরাহের নির্দেশনা দেন। মণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে প্রকাশ্য মাদক সেবন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাদকের সংশ্লিষ্টতা বা বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় বিকল্প জেনারেটর ও জরুরি চার্জিং বাল্ব রাখা, অবৈধ হকার উচ্ছেদ এবং বিসর্জনে শৃঙ্খলা রক্ষায় সিরিয়াল বা টোকেন ব্যবস্থা কার্যকরের তাগিদ দেন তিনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সিসিটিভি, সার্চ লাইট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগে নেসকোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করা হবে। তিনি সকল অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ভুলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত পূজা চলাকালে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপের নিরাপত্তায় জামায়াতের পক্ষ থেকে ৩০টি দায়িত্বশীল স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে থাকার নিশ্চয়তা দেন। এ ছাড়া মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী এবং মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহীর সভাপতি অচিন্ত কুমার বিশ্বাস মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জন ঘাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও বাড়তি নজরদারির অনুরোধ জানান। সভায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, পিবিআই, বিজিবি, র্যাব, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, গোয়েন্দা সংস্থা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও নেসকোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএমপির কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ এবং আরএমপির মুখপাত্র ও সিটিটিসির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান পিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।