মেধার স্বীকৃতি পেল আরএমপির কৃতি সন্তানরা
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশের নির্দেশনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি ২০২৪ ও ২০২৫’-এর নির্বাচিত কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক সম্মানী, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। আজ রবিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অনন্য কৃতিত্ব অর্জনকারী আরএমপি সদস্যদের মোট ৬৯ জন মেধাবী সন্তানের হাতে এই স্বীকৃতি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃতী শিক্ষার্থীদের গর্বিত অভিভাবক এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, সহকর্মীদের সন্তানদের কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বীকৃতি হিসেবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও উৎসাহিত করতে প্রতিবছর এই মেধাবৃত্তির আয়োজন করে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রতিটি বিষয়ে ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ বা 'এ প্লাস' অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি বিষয়। শিক্ষার্থীরা তাদের অধ্যবসায় ও একাগ্রতা দিয়েই এই অর্জন নিশ্চিত করেছে। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
পুলিশ কমিশনার উল্লেখ করেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের বিপুল আত্মত্যাগ করতে হয়। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ সদস্যরা নিজেদের সব সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে দিনরাত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাই তরুণ প্রজন্মকে কেবল পাঠ্যবইয়ের ভালো শিক্ষার্থী হলেই চলবে না; বরং সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও নৈতিক গুণাবলিসম্পন্ন খাঁটি মানুষ হয়ে বাবা-মায়ের ত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে। সন্তান যখন বাবা-মাকে ছাড়িয়ে মানবিকতার উচ্চ শিখরে পৌঁছায়, তখনই একজন অভিভাবকের জীবন সার্থক হয়।
তিনি আরও বলেন, এসএসসি বা এইচএসসি উত্তীর্ণ হওয়া জীবনের দীর্ঘ যাত্রার একটি প্রাথমিক ধাপ মাত্র; এখান থেকেই উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে সমাজ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী হিসেবে নিজেদের তৈরি করছে, যা পুলিশ পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের। পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল কিছুটা আশানুরূপ হয়নি, তাদের হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাস ও নবউদ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। গভীর রাত জাগার বদভ্যাস ত্যাগ করে নিয়মিত ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার ও তৈলাক্ত ভাজাপোড়া পরিহার করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত ঘুমের মাধ্যমে সুস্থ দেহ ও প্রশান্ত মন নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা মিম বলেন, দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও বাবা-মায়ের নিরলস ত্যাগের ফলেই আজকের এই সাফল্য। এই স্বীকৃতি দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে পেশাগত পরিচয়ের চেয়েও একজন মানবিক ও ভালো মানুষ হওয়াই তাঁর প্রধান ব্রত। এ সময় পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এক কনস্টেবল অভিভাবক। তিনি জানান, পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও শারীরিক শাস্তি পরিহার করে ধৈর্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে পরিচালনা করলেই সন্তানরা প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রব্বানী শেখ পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাঈনুল ইসলাম পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো. আবুল কালাম সাহিদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান পিপিএমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।