রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর: কাঠগড়ায় ছাত্রদল নেতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীবের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রবিবার রাতে ক্যাম্পাসের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সংঘটিত এ হামলায় অন্তত চারজন কর্মরত সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে আহসান হাবীবকে লাঠিসোঁটাসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান ও নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।
হামলার শিকার সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, দ্য ডেইলি স্টার, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, সমকাল ও আগামীর সময় পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা এ ঘটনায় আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকরা জানান, রাকসুর সাবেক সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের পাল্টাপাল্টি বিরোধকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মীর হাতে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দেখা যায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় তারা। কর্তব্যরত সাংবাদিকদের মারধর করা হয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং কয়েকজনের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ এটিই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার সঙ্গে বিতর্কিত গোপন ফোনালাপ ফাঁসের জেরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাকে রাবি ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। যদিও সে সময় অডিও রেকর্ডটি এডিটেড বলে দাবি করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর, অর্থ ছিনতাই এবং দলীয় কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য করার অভিযোগে প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। তবে এসব বিতর্ক ও বহিষ্কারাদেশের পরও ২০২৬ সালে রাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি পুনর্গঠনের সময় তার শাস্তি প্রত্যাহার করে সহসভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীব। তার দাবি, তারা কোনো নিরপেক্ষ সংবাদকর্মীর ওপর হামলা করেননি। তার ভাষ্যমতে, জিয়াউর রহমান হলে অবস্থানরত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে আটকাতে গেলে সেখানে অবস্থানরত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর তথাকথিত ‘সাংবাদিক নামধারী’ কয়েকজন চড়াও হয় এবং তাদের প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র। তবে পেশাগত দায়িত্বে নিয়োজিত মূলধারার গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।