জাসদ কার্যালয়ে আটক ২৭ জনের জামিন নাকচ
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের পরিচালিত অভিযানের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, সার্বিক ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত হতে অধিকতর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রয়োজন। জামিন আবেদন নাকচের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম মিয়া।
আদালতে শুনানিকালে আসামিপক্ষে জামিন আবেদন পরিচালনা করেন আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত ও তাছলিমা জাহান পপিসহ কয়েকজন আইনজীবী। অন্যদিকে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে রাখার আদেশ বহাল রাখেন।
এর আগে গত রবিবার রাতে পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম গ্রেপ্তারকৃত ২৭ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে হাজির করেন। পুলিশের রিমান্ড বা আটক রাখার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে সরকারবিরোধী 'জয় বাংলা' স্লোগান দেন এবং একটি অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালান। একই সঙ্গে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সংশ্লিষ্ট স্থানে উপস্থিতির কোনো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। সার্বিক আইনগত পদক্ষেপ ও তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাঁদের কারাগারে আটক রাখা অপরিহার্য বলে পুলিশ আবেদনে দাবি করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে রবিবার আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে সোমবার পূর্ণাঙ্গ জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
জামিন নামঞ্জুর হওয়া ২৭ জন হলেন দিদারুল আলম তুহিন, ইমান আহমেদ ইমন, মোল্লা মো. শাহজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মিরাজ আহমেদ, মিরাজ মালিথা, রবিউল ইসলাম, মিলন কুমার মহন্ত, কাউসার হোসেন, শ্রী অঞ্জন শীল, জালাল উদ্দিন মন্ডল, আব্দুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহাম্মেদ আহসান হাবিব, সুজন আলী, তসিকুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ সায়েক, নয়ন আলী, সাজিদুল ইসলাম তুহিন, তাজুল ইসলাম, নিষ্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, আল আমিন হাওলাদার, তুষার আলী, রাসিদুল হক ও মীর মুক্তিসুর রহমান।
গত শনিবার দুপুরের পর গুলিস্তানে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে এক সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় পৌনে তিন শ মানুষকে পুলিশি হেফাজতে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য ও পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ জনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় এবং বাকি ২৪৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে রবিবারের মধ্যেই অব্যাহতি দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে গোপনে সমবেত হয়ে কোনো নাশকতামূলক পরিকল্পনা বা অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন কি না, মূলত সেই তথ্য নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যালয়ের ভেতর ও বাইরে উসকানিমূলক স্লোগান ও সমাবেশ চলার নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতেই তারা পদক্ষেপ নেন।
অন্যদিকে জাসদের পক্ষ থেকে পুলিশের এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দলটির দাবি, দেশব্যাপী সাংগঠনিক প্রতিনিধি সম্মেলনের অংশ হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত পূর্বানুমতি নিয়েই শান্তিপ্রিয় এ অভ্যন্তরীণ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ সভা চলাকালীন বহিরাগতরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে হাঙ্গামা ও ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে প্রকৃত ভুক্তভোগী ও দলীয় নেতাকর্মীদেরই অন্যায়ভাবে আটক করে নিয়ে যায়। কার্যালয়ে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীর উপস্থিতির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে জাসদ।
দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণেই পুরো ঘটনার অন্তরালে থাকা তথ্য উদ্ঘাটনে আইনগত তদন্তের তাগিদ দিয়েছেন বিচারিক আদালত।