রাজশাহীর শান্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহতের হুঁশিয়ারি মাহফুজুর রহমান রিটনের
রাজশাহীর শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে দলমত নির্বিশেষে কঠোরভাবে প্রতিহত করার দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
পরিকল্পিত সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর বাটার মোড়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাবেশে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ একাধিক দফা ইতোমধ্যে দৃশ্যমানভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ যখন ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি ও উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার নানামুখী চক্রান্তে মেতে উঠেছে।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, রাজশাহী ঐতিহ্যগতভাবেই একটি শান্তিময় পরিবেশের শিক্ষানগরী। এই নগরীর স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না; ষড়যন্ত্রকারীদের মাঠেই শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে।
সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের এক নেতার দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ছাত্রদল বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে গভীর আবেগ ও ঐতিহ্যের জায়গা। এই সংগঠনকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ কিংবা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। ছাত্রদলের সম্মানহানি ঘটিয়ে রাজশাহীর মাটিতে অবস্থান করার দুঃসাহস না দেখানোর জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেন।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ। এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম, শফিকুল ইসলাম শাফিক, মুক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন শিবলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলুসহ নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বাটার মোড় চত্বরে সমবেত হন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। ফলে সমাবেশস্থল নেতাকর্মীদের স্লোগান ও উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।