রাজশাহীর লক্ষ্মীপুরে চিকিৎসা নিতে আসা নারীকে শ্লীলতাহানি ও মারধর
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন লক্ষ্মীপুর এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা স্বজনদের মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত গোলাম কিবরিয়া জিকিরের দুই ছেলে লাবিব সারাফাত রিদান (২১) ও তাঁর ভাই হামিদুল আলম সনি (৩০)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তৌহিদের ভাবি রাজশাহী ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর জন্য ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ কিনতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তৌহিদের স্ত্রী রূপা খাতুন (১৯), স্ত্রীর ভাই রাজিব আলী (২৮) ও শাশুড়ি লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে যান। সেখানে ওষুধ বিক্রেতা না থাকায় তাঁরা ফিরে আসার সময় 'আর রহমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট'-এর সামনে পৌঁছালে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. মাসুদ রানা তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় মাসুদ রানা তাঁর পরিচিত দোকান থেকে ওষুধ কেনার জন্য চাপ দেন।
তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে মাসুদ রানার নির্দেশে অন্য সহযোগীরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তৌহিদের স্ত্রীর ওড়না টেনে শ্লীলতাহানি করে এবং তাঁর শ্যালককে বেদম মারপিট করে জখম করে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় এবং অপর নারীকেও লাঞ্ছিত করা হয়। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরএমপি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নজরে আসে। তাঁর তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় পুলিশ ভুক্তভোগী পরিবারটিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী এলাকা থেকে খুঁজে বের করে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে। এরপর গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর রাজপাড়া থানায় ভুক্তভোগীর স্বামী তৌহিদ একটি লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত মামলা রুজু করে।
মামলা নথিভুক্তির পরপরই পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে রাজপাড়া থানা পুলিশ লক্ষ্মীপুর এলাকার পুরাতন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পেছনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত রাতে অভিযুক্ত রিদান ও সনিকে গ্রেপ্তার করে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আরএমপির পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, রাজশাহী নগরীর হাসপাতাল এলাকায় চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী কেউ যদি দালাল বা অসাধু চক্রের দ্বারা কোনো প্রকার হেনস্তা বা হয়রানির শিকার হন, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।