তানোরে দেবরের নির্যাতনে বাড়িছাড়া বিধবা নারীর ফলজ গাছ কাটার অভিযোগ
রাজশাহীর তানোরে দেবরের অত্যাচার, নির্যাতন ও লাগাতার হুমকির মুখে সন্তানসহ পৈতৃক ভিটে ছেড়ে যাওয়া এক বিধবা নারীর বসতবাড়ির সামনের বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে তানোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোকুল মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিধবা নারী বাদী হয়ে দেবর আব্দুল মতিন কবিরাজসহ (৪৫) তিনজনকে অভিযুক্ত করে শনিবার সন্ধ্যায় তানোর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্র, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে গোকুল মৌজার জেএল নং ১৫৪, খতিয়ান নং ৫৪৬, দাগ নং ৫৩-এর ২০ শতক ধানি জমির মধ্যে ওই নারীর নামে ক্রয় করা ৫ শতক এবং জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর স্বামী আব্দুল লতিব দেবরদের সঙ্গে পারিবারিক সমঝোতায় মৌখিকভাবে প্রাপ্ত ১৫ শতক—সর্বমোট ২০ শতক জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় আম, কাঁঠাল, সজিনাসহ বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছ লাগিয়ে সন্তান ও স্ত্রী রেহেনা বেগমকে নিয়ে বসবাস করছিলেন আব্দুল লতিব।
তবে প্রায় তিন বছর আগে আব্দুল লতিবের মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, লতিবের ছোট ভাই দেবর আব্দুল মতিন কবিরাজ ওই বিধবার বসতভিটা দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। গভীর রাতে বাড়ির দরজা-জানালায় আঘাত করা, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। একপর্যায়ে বাড়ির খাবার পানির একমাত্র বৈদ্যুতিক মোটরটিও জোরপূর্বক খুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্বজন, স্থানীয় কাউন্সিলর ও গ্রামবাসীকে অবগত করার পাশাপাশি ইতিপূর্বে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি ওই বিধবা। শেষপর্যন্ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাধ্য হয়ে প্রায় এক বছর আগে নিজের ভিটে ছেড়ে তানোর সদর এলাকায় সন্তানসহ ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি।
ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই দেবর মতিন আমার ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়ে আসছে। রাতবিরেতে বাড়িতে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিত। এমনকি সে আমার অনার্স পড়ুয়া ছেলেকেও হত্যার চেষ্টা করেছে। প্রাণ বাঁচাতে মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে ও অনার্স পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে তানোর সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছি। দিনের বেলায় এসে ভিটা আর গাছগুলোর যত্ন নিতাম। সেই সুযোগে মতিন ও তার লোকজন আমার আম, কাঁঠাল ও সজিনাসহ সাজানো বাগানের সব গাছ কেটে উজাড় করে দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আব্দুল মতিন কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।