মৃতপ্রায় কলকারখানা সচলে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে
বিগত সরকারের আমলে দেশের অসংখ্য সম্ভাবনাময় শিল্প ও কলকারখানা পরিকল্পিতভাবে বন্ধ এবং বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকার সেই অচলাবস্থা ভেঙে মৃতপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল ও উৎপাদনমুখী করতে নিরবচ্ছিন্ন প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিনব্যাপী পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জনপদে ধারাবাহিক গণসংযোগ এবং একাধিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য বলেন, রাজশাহী দেশবাসীর কাছে মূলত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত হলেও একসময় এই অঞ্চলে জুট মিল, সুগার মিল ও টেক্সটাইল মিলসহ বহু ভারী শিল্পকারখানা কর্মসংস্থানের মূল ভরসা ছিল। তবে বিগত শাসনব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় এর কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী কারখানা স্থায়ীভাবে বিলীন হয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে হরিয়ান সুগার মিলটি যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে পুরোদমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত প্রণোদনা বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী দিনেও রাজশাহীর সার্বিক শিল্প ও অবকাঠামোগত পুনরুজ্জীবনে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বজায় রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
হরিয়ান ইউনিয়নকে বিএনপির ঐতিহাসিক সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট মিলন বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ইউনিয়নের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। নির্বাচনের আগে তিনি জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষকে তাঁর কাছে ঘুরতে হবে না, বরং তিনিই মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে সেবা পৌঁছে দেবেন—সেই নীতিতেই তিনি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।
এমপি মিলন আরও বলেন, বিএনপি তৃণমূলের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার দল এবং অতীতে এই দল ক্ষমতায় থাকাকালীনই দেশে দৃশ্যমান শিল্পায়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উন্নয়নের ধারা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ধারণ করে বর্তমান নেতৃত্ব দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে।
এর আগে শনিবার সকালে মোসলেমের মোড় এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন সংসদ সদস্য। পরবর্তীতে তিনি আশরাফের মোড়, তেঁতুলতলা এবং সুচারণ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি তৃণমূল নাগরিকদের বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা, রাস্তাঘাটের দাবি ও সংকটের কথা শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অংশ নেন।