সাইবার অপরাধ দমনে আসছে বিশেষায়িত ইউনিট
ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে আগামী সপ্তাহেই একটি শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে এই পদের সংস্থান না থাকলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় তা নতুন করে সৃজন করা হবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন গঠিত হতে যাওয়া সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের কাঠামো অত্যন্ত বিস্তৃত ও কার্যকর হবে। দেশের প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকা, বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ে এর সক্রিয় শাখা বিস্তৃত থাকবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধ তদন্ত ও প্রতিরোধে থানা ও জেলা পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামে সজ্জিত করা হবে। পাশাপাশি জটিল ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও বিভাগীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের বৃহদাকার ফরেনসিক ল্যাব এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা হবে।
সাইবার ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাস্তবতায় সাইবার স্পেস ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন আধুনিক অপরাধ প্রবণতার অন্যতম প্রধান রূপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের কোনো কোনো রাষ্ট্রে মোট সংঘটিত অপরাধের প্রায় ৪৪ শতাংশই সাইবার প্রতারণা বা স্ক্যাম-ভিত্তিক। এ ধরনের অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এই ক্ষেত্রটিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে এখনও পুলিশের কিছু সদস্য পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নানামুখী গোপন তথ্য সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো অনুকম্পা দেখানো হবে না। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা বিগত সময়ে এ দেশের নিরীহ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, তারা দেশের বাইরে অবস্থান করে নানা বিভ্রান্তি ও হুমকি ছড়াচ্ছে। তারা যদি দেশে কোনো প্রকার অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে তাদের যেকোনো মূল্যে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। একই সঙ্গে বিগত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও দোসরদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।