রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীরাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা

রাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
রাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করছেন ওরাঁও সম্প্রদায়ের শিল্পীরা।

ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান, লোককাহিনি পরিবেশন এবং সনাতন ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ওরাঁও সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘কারাম পূজা’। পরিবার ও সমাজের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভালো ফসলের প্রত্যাশায় দুই দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মঙ্গল শোভা ও আচারের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় রীতি মেনে কারাম গাছের ডাল বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ওঁরাও কালচারাল ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রণিকান্ত তিকী। উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকালে ক্যাম্পাসজুড়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসী সংস্কৃতির অপূর্ব আমেজ।

আয়োজকদের ভাষ্যমতে, ওরাঁও সম্প্রদায়ের বিশ্বাসে কারাম গাছ পবিত্রতা, মঙ্গল ও সুরক্ষার প্রতীক। বংশপরম্পরায় প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে আশ্বিন মাসের শুরুতে তারা এই উৎসব পালন করে আসছেন। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, কারাম পূজার মাধ্যমে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং সার্বিক কৃষি ফলনে সমৃদ্ধি আসে। রীতি অনুযায়ী, পূজার দিন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্জলা উপবাস পালন করেন। এরপর নেচে-গেয়ে বন বা নির্দিষ্ট স্থান থেকে কারাম গাছের ডাল কেটে এনে পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয় এবং উপবাস ভেঙে শুরু হয় রাতভর ধর্মীয় আচার, নৃত্য ও লোকগাঁথা পাঠ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন উদযাপনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছবি বীর জানান, ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে সমতলের আদিবাসীরা প্রথমবারের মতো এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব উদযাপন করতে পেরে আনন্দিত। সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ তাদের সংস্কৃতি চর্চাকে আরও উৎসাহিত করেছে। একই অনুভূতি প্রকাশ করে ৭২ বছর বয়সী প্রবীণ লালু সরদার বলেন, কারাম পূজা তাদের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের সবচেয়ে বড় উৎসব, যার মূল কামনাই হলো সৃষ্টির কল্যাণ ও সম্প্রদায়ের ঐকতান ধরে রাখা।

উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদুল ইসলাম ওরাঁও সম্প্রদায়ের প্রতি আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক শিক্ষার আলো গ্রহণ না করলে জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কোনো ধরনের হীনম্মন্যতায় না ভুগে ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের মূলধারার চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে হবে এবং মেধার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে হবে।

রাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীরাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা

রাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
রাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করছেন ওরাঁও সম্প্রদায়ের শিল্পীরা।

ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান, লোককাহিনি পরিবেশন এবং সনাতন ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ওরাঁও সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘কারাম পূজা’। পরিবার ও সমাজের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ভালো ফসলের প্রত্যাশায় দুই দিনব্যাপী এই বর্ণিল উৎসবটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মঙ্গল শোভা ও আচারের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় রীতি মেনে কারাম গাছের ডাল বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ওঁরাও কালচারাল ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রণিকান্ত তিকী। উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকালে ক্যাম্পাসজুড়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ি ও সমতলের আদিবাসী সংস্কৃতির অপূর্ব আমেজ।

আয়োজকদের ভাষ্যমতে, ওরাঁও সম্প্রদায়ের বিশ্বাসে কারাম গাছ পবিত্রতা, মঙ্গল ও সুরক্ষার প্রতীক। বংশপরম্পরায় প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে আশ্বিন মাসের শুরুতে তারা এই উৎসব পালন করে আসছেন। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, কারাম পূজার মাধ্যমে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং সার্বিক কৃষি ফলনে সমৃদ্ধি আসে। রীতি অনুযায়ী, পূজার দিন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্জলা উপবাস পালন করেন। এরপর নেচে-গেয়ে বন বা নির্দিষ্ট স্থান থেকে কারাম গাছের ডাল কেটে এনে পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয় এবং উপবাস ভেঙে শুরু হয় রাতভর ধর্মীয় আচার, নৃত্য ও লোকগাঁথা পাঠ।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন উদযাপনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছবি বীর জানান, ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে সমতলের আদিবাসীরা প্রথমবারের মতো এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব উদযাপন করতে পেরে আনন্দিত। সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও ইতিবাচক পরিবেশ তাদের সংস্কৃতি চর্চাকে আরও উৎসাহিত করেছে। একই অনুভূতি প্রকাশ করে ৭২ বছর বয়সী প্রবীণ লালু সরদার বলেন, কারাম পূজা তাদের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের সবচেয়ে বড় উৎসব, যার মূল কামনাই হলো সৃষ্টির কল্যাণ ও সম্প্রদায়ের ঐকতান ধরে রাখা।

উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদুল ইসলাম ওরাঁও সম্প্রদায়ের প্রতি আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক শিক্ষার আলো গ্রহণ না করলে জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কোনো ধরনের হীনম্মন্যতায় না ভুগে ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের মূলধারার চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে হবে এবং মেধার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখতে হবে।

রাবি ক্যাম্পাসে আদিবাসী উৎসবের রঙ: সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী কারাম পূজা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬