বগুড়ায় ফিলিং স্টেশনের গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ
বগুড়া শহরতলির তিনমাথা এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের গ্যাস প্ল্যান্টে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সেখানে গ্যাস নিতে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গ্যাস রিফিলিং প্ল্যান্টের ভারী ছাউনি উড়ে গিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া একটার দিকে তিনমাথা এলাকার ‘অতিথি ফিলিং স্টেশন’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিং স্টেশন কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে প্ল্যান্টের নজলে বেশ কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিচ্ছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে গ্যাস প্ল্যান্টের অভ্যন্তরীণ অংশে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় ফিলিং স্টেশনের মজবুত নিরাপত্তাদেয়াল ধসে পড়ে এবং স্টেশনের প্রধান রিজার্ভ ট্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে আগুনের তাপে রিফিল করতে আসা একাধিক অটোরিকশার বডি ও ভেতরের অংশ পুড়ে যায়। এ সময় হুড়োহুড়ি ও আগুনের সংস্পর্শে এসে চালকসহ পাঁচজন আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম জানান, গ্যাস রিফিলিংয়ের মূল পয়েন্টে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের সঠিক উৎস ও কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; তদন্ত শেষে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
অতিথি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। কারিগরি ত্রুটি নাকি সিলিন্ডারের অতিরিক্ত চাপের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।