ওঝা-বৈদ্যের কুসংস্কার ছাড়ুন, সাপে কাটলে হাসপাতালে যান: রাজশাহীর কর্মশালায় পুলিশ কমিশনার
আন্তর্জাতিক সর্প দংশন সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহীতে সর্পদংশন প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসা, নিরাপদ সাপ উদ্ধার এবং প্রকৃতিতে অবমুক্তকরণ সংক্রান্ত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের উদ্যোগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর শাহমখদুম কলেজ মিলনায়তনে এই কর্মশালাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. জুনায়েদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডীন অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন সরদার এবং শাহমখদুম কলেজের অধ্যক্ষ এস. এম. রেজাউল ইসলাম। এ ছাড়া প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং বিশিষ্ট সর্প বিশেষজ্ঞ ও গবেষক বোরহান বিশ্বাস রোমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর বলেন, আমাদের সমাজে সিনেমা, নাটক, গল্প ও উপন্যাসের কাল্পনিক প্রভাবে সাপে কাটা নিয়ে নানা ধরনের অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও ভুল ধারণা শিকড় গেড়ে বসেছে। এর ফলে অনেক মানুষ সর্পদংশনের শিকার হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে ওঝা বা বেদেদের কাছে ছোটাছুটি করেন, যা তাদের সঠিক চিকিৎসা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে এবং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সর্পদংশনের পর কোন হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে বা কী ধরনের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। অতিরিক্ত আতঙ্ক এবং ভুল সিদ্ধান্ত অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। তাই সর্পদংশন সংক্রান্ত কুসংস্কার ও বিভ্রান্তি চিরতরে দূর করতে সমাজজুড়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সঠিক জ্ঞান সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালার প্রশিক্ষণ পর্বে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকরা অংশগ্রহণকারীদের বৈজ্ঞানিক উপায়ে সাপ উদ্ধার, নিরাপদে হ্যান্ডলিং এবং পরবর্তীতে তা উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্তকরণের বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন। এ সময় সাপ উদ্ধারের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিজেদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী, প্রকৃতিপ্রেমী ও স্বেচ্ছাসেবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।