শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীমাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা
সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণিসম্পদ খাত

মাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা

favicon
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
মাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা ও পাঁচ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এখন তীব্র জনবলসংকটে ধুঁকছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বছরের পর বছর লোকবল না থাকায় স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পশুচিকিৎসা, টিকাদান কর্মসূচি এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার নিয়মিত সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ১৩টি পদের মধ্যে সাতটি এবং পাঁচটি উপজেলা কার্যালয়ের ৫৫টি পদের মধ্যে ৩১টিই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ মোট ৬৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৩৮টি পদেই কোনো জনবল নেই। এসব শূন্য পদের কোনোটি বিগত ছয় মাস, কোনোটি এক বছর, আবার কোনো কোনোটি প্রায় তিন বছর ধরে খালি পড়ে রয়েছে।

উপজেলাগুলোর মাঠপর্যায়ের চিত্র আরও নাজুক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ-এই পাঁচ উপজেলার কোনোটিতেই মাঠপর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট’ (ভিএফএ) পদে কোনো কর্মী নেই। নাচোল উপজেলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) এবং ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস)—উভয় শীর্ষ পদই শূন্য। এছাড়া সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও ভোলাহাটে নেই কোনো কম্পাউন্ডার। দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনা ও হিসাব সংরক্ষণের মতো অপরিহার্য কাজে শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুরে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদ খালি রয়েছে। এমনকি ভোলাহাটে ড্রেসার এবং সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুরে অফিস সহায়কের পদও শূন্য।

গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াসিম আকরাম জানান, উপজেলায় ১১টি পদের বিপরীতে নথিপত্রে ছয়জন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন। বাকি দুজনের মধ্যে একজন প্রেষণে (ডেপুটেশন) এবং অন্যজন তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত টিকাদান, নতুন খামার নিবন্ধন, বন্ধ খামারের তথ্য হালনাগাদ, অসুস্থ পশুর চিকিৎসা এবং খামারিদের সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইভাবে জেলা কার্যালয়ের ছয়জন কর্মকর্তার মধ্যে একজন প্রেষণে এবং অন্যজন অসুস্থতাজনিত কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অসমর্থ।

এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলার উদীয়মান ডেইরি ও পোলট্রি শিল্পে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুনজের আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও লোকবল না থাকায় নিবন্ধিত খামারিরা সময়মতো পশুর জন্য সরকারি টিকা পাচ্ছেন না। প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে অসুস্থ পশুর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগও বন্ধের উপক্রম। এ অবস্থায় খামারিদের অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক ও কর্মচারীর তীব্র সংকটের কারণে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সেবা, রোগ প্রতিরোধ, দুধ-ডিম-মাংস উৎপাদনে নিয়মিত তদারকি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শূন্য পদ পূরণের জন্য অধিদপ্তরে নিয়মিত লিখিত চাহিদাপত্র ও মৌখিক আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না।

মাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা
সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণিসম্পদ খাত
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীমাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা
সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণিসম্পদ খাত

মাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা

favicon
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
মাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা ও পাঁচ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এখন তীব্র জনবলসংকটে ধুঁকছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বছরের পর বছর লোকবল না থাকায় স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পশুচিকিৎসা, টিকাদান কর্মসূচি এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার নিয়মিত সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ১৩টি পদের মধ্যে সাতটি এবং পাঁচটি উপজেলা কার্যালয়ের ৫৫টি পদের মধ্যে ৩১টিই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ মোট ৬৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৩৮টি পদেই কোনো জনবল নেই। এসব শূন্য পদের কোনোটি বিগত ছয় মাস, কোনোটি এক বছর, আবার কোনো কোনোটি প্রায় তিন বছর ধরে খালি পড়ে রয়েছে।

উপজেলাগুলোর মাঠপর্যায়ের চিত্র আরও নাজুক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর, নাচোল, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জ-এই পাঁচ উপজেলার কোনোটিতেই মাঠপর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট’ (ভিএফএ) পদে কোনো কর্মী নেই। নাচোল উপজেলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) এবং ভেটেরিনারি সার্জন (ভিএস)—উভয় শীর্ষ পদই শূন্য। এছাড়া সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও ভোলাহাটে নেই কোনো কম্পাউন্ডার। দাপ্তরিক নথি ব্যবস্থাপনা ও হিসাব সংরক্ষণের মতো অপরিহার্য কাজে শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুরে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদ খালি রয়েছে। এমনকি ভোলাহাটে ড্রেসার এবং সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুরে অফিস সহায়কের পদও শূন্য।

গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াসিম আকরাম জানান, উপজেলায় ১১টি পদের বিপরীতে নথিপত্রে ছয়জন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র তিনজন। বাকি দুজনের মধ্যে একজন প্রেষণে (ডেপুটেশন) এবং অন্যজন তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে নিয়মিত টিকাদান, নতুন খামার নিবন্ধন, বন্ধ খামারের তথ্য হালনাগাদ, অসুস্থ পশুর চিকিৎসা এবং খামারিদের সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একইভাবে জেলা কার্যালয়ের ছয়জন কর্মকর্তার মধ্যে একজন প্রেষণে এবং অন্যজন অসুস্থতাজনিত কারণে নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অসমর্থ।

এই অচলাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলার উদীয়মান ডেইরি ও পোলট্রি শিল্পে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুনজের আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও লোকবল না থাকায় নিবন্ধিত খামারিরা সময়মতো পশুর জন্য সরকারি টিকা পাচ্ছেন না। প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে অসুস্থ পশুর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগও বন্ধের উপক্রম। এ অবস্থায় খামারিদের অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক ও কর্মচারীর তীব্র সংকটের কারণে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সেবা, রোগ প্রতিরোধ, দুধ-ডিম-মাংস উৎপাদনে নিয়মিত তদারকি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শূন্য পদ পূরণের জন্য অধিদপ্তরে নিয়মিত লিখিত চাহিদাপত্র ও মৌখিক আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না।

মাঠপর্যায়ে নেই কর্মী, টেবিলে নেই কর্মকর্তা
সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাণিসম্পদ খাত
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬