শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কুলকিনারা

রাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহাসিক টিকাপাড়া গোরস্থানে পরিবারের মাত্র একজনের উপস্থিতিতে গভীর রাতে এক ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করার ঘটনাকে ঘিরে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা, আর ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের সুশীল ও সচেতন মহলে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়-আদৌ কি তিন বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ নতুন করে দাফন করা হয়েছে, নাকি এর অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

উপস্থাপিত নথিপত্র ও তথ্যের গরমিল পুরো ঘটনাকে এক জটিল সমীকরণে রূপ দিয়েছে। সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, হেফাজ উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু কি ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ ঢাকার পপুলার হাসপাতালে হয়েছিল, নাকি ২০২৬ সালের ১০ জুলাই ভারতের কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে? টিকাপাড়া গোরস্থান কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া নথি, সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র এবং মনিপাল হাসপাতালের মৃত্যু সনদে উল্লেখিত তারিখ ও তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি দেখা যাচ্ছে। যদি নথিপত্রের দাবি অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মনিপাল হাসপাতালে হেফাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ কাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল কিংবা দাফন করা হয়েছিল? আবার যদি ২০২৩ সালেই হেফাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে সম্প্রতি ভারত থেকে আনা কিংবা মনিপাল হাসপাতালের মৃত্যু সনদের ভিত্তিতে দাফন করা ব্যক্তিটি কে?

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এবং দাফন প্রক্রিয়ার পুরো তদারকিতে থাকা মরহুমের ছেলে ডা. তৌফিক তানভীরের নীরবতা এই রহস্যকে আরও উসকে দিচ্ছে। দাফন করা মরদেহটি আসলে কার-হেফাজ উদ্দিনের, নাকি অন্য কোনো নারী বা পুরুষের, সে বিষয়ে একমাত্র তিনিই সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঘটনার পর থেকে তার নীরব ভূমিকা এবং কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসায় জনমনে তৈরি হচ্ছে নানা চাঞ্চল্যকর জল্পনা-কল্পনা।

এদিকে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক খবর প্রকাশের প্রায় ১২ দিন এবং মূল ঘটনার প্রায় ৫০ দিন অতিক্রান্ত হলেও তদন্তের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের মন্থর গতির কারণে সংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগ বা আত্মগোপনে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নথিপত্রে কোনো জালিয়াতি বা ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি উঠেছে।

রাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কুলকিনারা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কুলকিনারা

রাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহাসিক টিকাপাড়া গোরস্থানে পরিবারের মাত্র একজনের উপস্থিতিতে গভীর রাতে এক ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করার ঘটনাকে ঘিরে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা, আর ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের সুশীল ও সচেতন মহলে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়-আদৌ কি তিন বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ নতুন করে দাফন করা হয়েছে, নাকি এর অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

উপস্থাপিত নথিপত্র ও তথ্যের গরমিল পুরো ঘটনাকে এক জটিল সমীকরণে রূপ দিয়েছে। সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, হেফাজ উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু কি ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ ঢাকার পপুলার হাসপাতালে হয়েছিল, নাকি ২০২৬ সালের ১০ জুলাই ভারতের কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে? টিকাপাড়া গোরস্থান কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া নথি, সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র এবং মনিপাল হাসপাতালের মৃত্যু সনদে উল্লেখিত তারিখ ও তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি দেখা যাচ্ছে। যদি নথিপত্রের দাবি অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মনিপাল হাসপাতালে হেফাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ কাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল কিংবা দাফন করা হয়েছিল? আবার যদি ২০২৩ সালেই হেফাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে সম্প্রতি ভারত থেকে আনা কিংবা মনিপাল হাসপাতালের মৃত্যু সনদের ভিত্তিতে দাফন করা ব্যক্তিটি কে?

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এবং দাফন প্রক্রিয়ার পুরো তদারকিতে থাকা মরহুমের ছেলে ডা. তৌফিক তানভীরের নীরবতা এই রহস্যকে আরও উসকে দিচ্ছে। দাফন করা মরদেহটি আসলে কার-হেফাজ উদ্দিনের, নাকি অন্য কোনো নারী বা পুরুষের, সে বিষয়ে একমাত্র তিনিই সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঘটনার পর থেকে তার নীরব ভূমিকা এবং কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসায় জনমনে তৈরি হচ্ছে নানা চাঞ্চল্যকর জল্পনা-কল্পনা।

এদিকে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক খবর প্রকাশের প্রায় ১২ দিন এবং মূল ঘটনার প্রায় ৫০ দিন অতিক্রান্ত হলেও তদন্তের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের মন্থর গতির কারণে সংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগ বা আত্মগোপনে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নথিপত্রে কোনো জালিয়াতি বা ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের জোর দাবি উঠেছে।

রাজশাহীর দাফন রহস্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কুলকিনারা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬