কারামুক্তদের পুনর্বাসনে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের ভ্যান উপহার
জীবনের সোনালী সময়গুলো কেটেছে চার দেয়ালের বন্দিদশায়। দীর্ঘ কারাভোগ শেষে মুক্ত আকাশের নিচে ফিরেও তাঁদের ঘিরে ধরেছিল চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তা। দীর্ঘ বিচ্ছেদে বিপর্যস্ত পরিবার, কর্মহীনতা আর পুঁজির অভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ যখন প্রায় রুদ্ধ, ঠিক তখনই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিল রাজশাহী জেলা প্রশাসন। দীর্ঘ সাজা খেটে মুক্তি পাওয়া এমন দুই ব্যক্তি—পবার মিঠু ও বাগমারার মো. ইসরাফিলের পুনর্বাসন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে দুটি নতুন ভ্যান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে ভ্যান দুটির চাবি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে কুলসুম সম্পা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী উপস্থিত ছিলেন।
কারা নথি সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মিঠু ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন। ২০০৩ সালের ১১ অক্টোবর তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সাজা ভোগ শেষে চলতি বছরের ১৬ জুলাই তিনি মুক্তি পান। তবে মুক্ত হলেও সমাজে নতুন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো কোনো অবলম্বন তাঁর ছিল না। চরম আর্থিক অনটনের মুখে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে একটি ভ্যান অনুদানের লিখিত আবেদন জানান। অন্যদিকে বাগমারা উপজেলার কোন্দা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইসরাফিলও দীর্ঘ ২৩ বছর কারাভোগ শেষে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছেন। দীর্ঘ বন্দিজীবনের কারণে তাঁর পরিবারেও তীব্র আর্থিক সংকট দেখা দেয়।
উপহারের ভ্যান হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মিঠু বলেন, জীবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে পার করে বাইরে এসে চরম হতাশায় পড়েছিলেন। সংসার পরিচালনা ও পুনর্বাসনের যখন কোনো উপায় ছিল না, তখন জেলা প্রশাসকের এই সহায়তা তাঁকে বাঁচার নতুন দিশা দেখিয়েছে। এটি তাঁর কাছে কেবল একটি বাহন নয়, বরং সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার অবলম্বন। এখন থেকে ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত আয়ে তিনি নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
ভ্যান বিতরণকালে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, কারাগার পরিদর্শনের সময়ই এই ব্যক্তিদের পারিবারিক অসহায়ত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উদ্বেগের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছিল। তাঁরা অত্যন্ত দরিদ্র এবং সাজা শেষে বাইরে এসে যাতে পুনরায় কোনো বিপথে বা অনিশ্চয়তায় না পড়েন, সেজন্যই পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, উপহার পাওয়া এই ভ্যানের মাধ্যমে তাঁরা বৈধ উপার্জনে যুক্ত হয়ে সমাজের মূল স্রোতে সম্মানের সাথে বসবাস করতে সক্ষম হবেন।