বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদসংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে

সংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে

favicon
উপচার ডেস্ক :-
সংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের উপস্থিতিতে এক শিক্ষার্থীর হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে সংবিধান কেবল আদালত, সংসদ কিংবা আইন বিশেষজ্ঞদের তাত্ত্বিক আলোচনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সচেতনতা ও চর্চার মধ্যেও তা গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দেশের তৃণমূল পর্যায় এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও নাগরিকরা সংবিধান ও নিজেদের অধিকার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সুস্থ বিতর্ক ও মতবিনিময় নাগরিকদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে অধিকতর সচেতন করে তোলে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস ও দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধান এমন একটি মৌলিক দলিল, যা কেবল বিচারক বা আইনজীবীদের অনুশীলনের বিষয় নয়। দেশের চায়ের দোকান পর্যন্ত যে প্রাঞ্জল সাংবিধানিক চর্চা ও বিতর্ক চলে, সেই চেতনার প্রতিফলন রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে যত বেশি আলোচনা হবে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা ততটাই সংহত হবে। তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান নিয়ে সমাজে বিভিন্ন মত ও চিন্তা থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এই বহুমাত্রিক আলোচনার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

বক্তব্যে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের এই বিশেষ এখতিয়ার রাষ্ট্রের সাংবিধানিক স্তম্ভের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। তবে অতীতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কাঠামোর এমন ব্যবস্থার অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহারের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা রোধে রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব পরিধির মধ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে সরকারের কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়; বরং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ বিচার সম্পন্ন করাই রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। এসব গুরুতর অপরাধের বিচারের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ রয়েছে। আদালতে গ্রহণযোগ্য ও আইনি মানদণ্ড অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

অতীতের মানবাধিকার পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে দেশে কয়েক হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং শত শত মানুষ গুমের নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমান সরকার এই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখতে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মতপার্থক্যকে যে কোনো প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অলংকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। মার্কিন সংবিধান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, প্যানেল ডিসকাশন, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম প্রদর্শনী।

সংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদসংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে

সংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে

favicon
উপচার ডেস্ক :-
সংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের উপস্থিতিতে এক শিক্ষার্থীর হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে সংবিধান কেবল আদালত, সংসদ কিংবা আইন বিশেষজ্ঞদের তাত্ত্বিক আলোচনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সচেতনতা ও চর্চার মধ্যেও তা গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দেশের তৃণমূল পর্যায় এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও নাগরিকরা সংবিধান ও নিজেদের অধিকার নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সুস্থ বিতর্ক ও মতবিনিময় নাগরিকদের অধিকার এবং দায়িত্ব সম্পর্কে অধিকতর সচেতন করে তোলে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস ও দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধান এমন একটি মৌলিক দলিল, যা কেবল বিচারক বা আইনজীবীদের অনুশীলনের বিষয় নয়। দেশের চায়ের দোকান পর্যন্ত যে প্রাঞ্জল সাংবিধানিক চর্চা ও বিতর্ক চলে, সেই চেতনার প্রতিফলন রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে যত বেশি আলোচনা হবে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা ততটাই সংহত হবে। তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান নিয়ে সমাজে বিভিন্ন মত ও চিন্তা থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এই বহুমাত্রিক আলোচনার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।

বক্তব্যে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় উচ্চ আদালতের এই বিশেষ এখতিয়ার রাষ্ট্রের সাংবিধানিক স্তম্ভের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। তবে অতীতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবিধানিক কাঠামোর এমন ব্যবস্থার অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহারের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা রোধে রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব পরিধির মধ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে সরকারের কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়; বরং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ বিচার সম্পন্ন করাই রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। এসব গুরুতর অপরাধের বিচারের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ রয়েছে। আদালতে গ্রহণযোগ্য ও আইনি মানদণ্ড অক্ষুণ্ণ রেখেই প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

অতীতের মানবাধিকার পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে দেশে কয়েক হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং শত শত মানুষ গুমের নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। বর্তমান সরকার এই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখতে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মতপার্থক্যকে যে কোনো প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অলংকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমেই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। মার্কিন সংবিধান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, প্যানেল ডিসকাশন, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম প্রদর্শনী।

সংবিধান শুধু আদালত বা সংসদের নয়, চায়ের দোকানেও এর চর্চা চলে
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬