মক্কার আকাশসীমায় ড্রোন নিয়ে সৌদি-হুতি উত্তেজনা
ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী মক্কার কাছাকাছি এলাকায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের পাঠানো একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সংঘটিত এই ঘটনার পর রিয়াদ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পবিত্র স্থানকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে কঠোর নিন্দা জানানো হচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি দাবি করেন, প্রায় এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম হুতিরা মক্কাকে সরাসরি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর অপচেষ্টা করেছে। পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষা সৌদি আরবের জন্য অলঙ্ঘনীয় সীমানা উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এ ধরনের উসকানিমূলক তৎপরতার মুখে সৌদি আরব যে কোনো কঠোর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করবে না। জোটের দাবি অনুযায়ী, ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই নিরাপত্তা বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা শনাক্ত করে ধ্বংস করে দেয়।
সৌদি আরবের তোলা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিদের সামরিক শাখা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, মক্কার পবিত্র স্থাপনাগুলোর প্রতি তাদের কোনো হুমকি নেই এবং সেখানে হামলার কোনো পরিকল্পনাও তাদের ছিল না। তাদের প্রকৃত লক্ষ্য ছিল পবিত্র স্থানগুলো থেকে বহুদূরে অবস্থিত সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো।
এদিকে মক্কার কাছে ড্রোন প্রতিহতের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। এক বিবৃতিতে ওআইসি বলেছে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার যে কোনো অপচেষ্টা চরম নিন্দনীয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি তাঁর দেশের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের টানাপোড়েনের মধ্যে লোহিত সাগর ও সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের সামরিক তৎপরতা নতুন করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহে খামিস মুশাইত, আবহা এবং তাইফসহ একাধিক সৌদি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইয়ানবুতে আরামকোর তেল টার্মিনাল লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।