বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদসিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা

সিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
সিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা

দেশে দায়বদ্ধ ও টেকসই ব্যবসায়িক সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের পূর্ববর্তী অর্থবছরের কর-পূর্ব মুনাফার ন্যূনতম ১ শতাংশ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় করতে হবে। তবে এই তহবিলের অর্থ কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যয়কে এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। নীতিমালার খসড়ার ওপর অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, যা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংক, আর্থিক খাত ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব তাগিদে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও জাতীয় পর্যায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত আইনি কাঠামো ছিল না। ফলে অনুদান বিতরণে সমতার অভাব, পরিকল্পনাহীনতা ও স্বচ্ছতার সংকট দেখা দিত। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরির উদ্দেশ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘জাতীয় সিএসআর সমন্বয় কমিটি’ গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে সিএসআর ব্যয়ের নামে ভিত্তিহীন কিংবা বিভ্রান্তিকর পরিবেশবান্ধব ও কার্বন নিরপেক্ষ দাবি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ যুক্তিসংগত প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী আখ্যা দিয়েছেন। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেছেন, বিচ্ছিন্ন অনুদানের সংস্কৃতি ভেঙে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যয়ের নিষেধাজ্ঞাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞাই যথেষ্ট নয়, বরং পরোক্ষ কোনো ফাউন্ডেশন, ইভেন্ট কিংবা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যাতে অর্থের অপব্যবহার না ঘটে, সেজন্য কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে ক্ষুদ্র ও আর্থিকভাবে দুর্বল উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে নীতিমালার কিছুটা নমনীয়তা থাকা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন অর্থনীতিবিদরা।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কিছু ধারার ওপর সংশোধনের দাবি তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক জানিয়েছেন, কর-পূর্ব মুনাফার পরিবর্তে কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে এই হার নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত হবে। এছাড়া অনেক নবীন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সিএসআরের সার্বিক পরিধি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না থাকায় সবার ওপর এটি কঠোরভাবে চাপিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্যবসায়ীদের বিশেষজ্ঞ দল খসড়াটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।

নীতিমালার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বহুজাতিক কোম্পানি এবং ২০২২ সালের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কুটির শিল্প এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ না করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক না করে স্বেচ্ছামূলক রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাতের সিএসআর ব্যয় ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছিল। ২০২২ সালে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয় করলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ের পরিমাণ আরও সংকুচিত হয়ে নেমে আসে মাত্র ৩৪৫ কোটি টাকায়।

নতুন নীতিমালায় খাতের নির্দিষ্ট শতাংশ নির্ধারণ না করে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সুফল বয়ে আনে এমন খাতগুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, ঝরে পড়া রোধ, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুষ্টি কর্মসূচি, মারাত্মক ব্যাধির চিকিৎসা সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। একই সঙ্গে জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান গবেষণায় সিএসআর তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো অর্থবছর বরাদ্দ সম্পূর্ণ খরচ না হলে যৌক্তিক কারণ দর্শিয়ে তা পরবর্তী অর্থবছরে ব্যবহারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

তবে আইনগত বা বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়, দৈনন্দিন ব্যবসায়িক পরিচালনা ব্যয়, নিজস্ব পণ্য বা সেবার বাণিজ্যিক বিপণন ও বিজ্ঞাপনী প্রচারণা, আইন ভঙ্গের জরিমানা পরিশোধ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস ও নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা এবং মালিক-পরিচালকদের ব্যক্তিগত আপ্যায়ন বা উপহারে এই তহবিল ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অর্থ প্রকৃত অর্থেই দেশ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদসিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা

সিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
সিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা

দেশে দায়বদ্ধ ও টেকসই ব্যবসায়িক সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের পূর্ববর্তী অর্থবছরের কর-পূর্ব মুনাফার ন্যূনতম ১ শতাংশ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় করতে হবে। তবে এই তহবিলের অর্থ কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যয়কে এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে। নীতিমালার খসড়ার ওপর অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে, যা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যাংক, আর্থিক খাত ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব তাগিদে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও জাতীয় পর্যায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত আইনি কাঠামো ছিল না। ফলে অনুদান বিতরণে সমতার অভাব, পরিকল্পনাহীনতা ও স্বচ্ছতার সংকট দেখা দিত। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরির উদ্দেশ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘জাতীয় সিএসআর সমন্বয় কমিটি’ গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই নীতিমালার মাধ্যমে সিএসআর ব্যয়ের নামে ভিত্তিহীন কিংবা বিভ্রান্তিকর পরিবেশবান্ধব ও কার্বন নিরপেক্ষ দাবি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ যুক্তিসংগত প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী আখ্যা দিয়েছেন। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেছেন, বিচ্ছিন্ন অনুদানের সংস্কৃতি ভেঙে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যয়ের নিষেধাজ্ঞাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞাই যথেষ্ট নয়, বরং পরোক্ষ কোনো ফাউন্ডেশন, ইভেন্ট কিংবা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যাতে অর্থের অপব্যবহার না ঘটে, সেজন্য কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে ক্ষুদ্র ও আর্থিকভাবে দুর্বল উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে নীতিমালার কিছুটা নমনীয়তা থাকা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন অর্থনীতিবিদরা।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কিছু ধারার ওপর সংশোধনের দাবি তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক জানিয়েছেন, কর-পূর্ব মুনাফার পরিবর্তে কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে এই হার নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত হবে। এছাড়া অনেক নবীন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সিএসআরের সার্বিক পরিধি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না থাকায় সবার ওপর এটি কঠোরভাবে চাপিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্যবসায়ীদের বিশেষজ্ঞ দল খসড়াটি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।

নীতিমালার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, বহুজাতিক কোম্পানি এবং ২০২২ সালের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কুটির শিল্প এবং নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ না করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক না করে স্বেচ্ছামূলক রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাতের সিএসআর ব্যয় ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছিল। ২০২২ সালে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয় করলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ের পরিমাণ আরও সংকুচিত হয়ে নেমে আসে মাত্র ৩৪৫ কোটি টাকায়।

নতুন নীতিমালায় খাতের নির্দিষ্ট শতাংশ নির্ধারণ না করে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সুফল বয়ে আনে এমন খাতগুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, ঝরে পড়া রোধ, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুষ্টি কর্মসূচি, মারাত্মক ব্যাধির চিকিৎসা সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। একই সঙ্গে জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান গবেষণায় সিএসআর তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো অর্থবছর বরাদ্দ সম্পূর্ণ খরচ না হলে যৌক্তিক কারণ দর্শিয়ে তা পরবর্তী অর্থবছরে ব্যবহারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

তবে আইনগত বা বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়, দৈনন্দিন ব্যবসায়িক পরিচালনা ব্যয়, নিজস্ব পণ্য বা সেবার বাণিজ্যিক বিপণন ও বিজ্ঞাপনী প্রচারণা, আইন ভঙ্গের জরিমানা পরিশোধ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস ও নিয়মিত সুযোগ-সুবিধা এবং মালিক-পরিচালকদের ব্যক্তিগত আপ্যায়ন বা উপহারে এই তহবিল ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অর্থ প্রকৃত অর্থেই দেশ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সিএসআর নীতিমালায় রাজনৈতিক অনুদানে নিষেধাজ্ঞা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬