মান্দায় বিগ ক্যান্টিলিভার নির্মাণকাজে বাধা, প্রতিবাদকারীদের ওসির হুমকির অভিযোগ
নওগাঁর মান্দায় নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মাণাধীন বিগ ক্যান্টিলিভার (পথচারীদের পথনির্দেশক তোরণ) নির্মাণকাজের মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাতের আঁধারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা বাধা দিলে একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম প্রতিবাদকারীদের ধমক ও হুমকি দেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে বিগ ক্যান্টিলিভারের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছিল। গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢালাই ও নির্মাণকাজ চলার সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বেইজ ও সাব-বেইজের ঢালাই, আরসিসি, রড, সিমেন্ট এবং ইট-খোয়ার মান যাচাই না করে কেন রাতের বেলায় কাজ করা হচ্ছে, তা জানতে চান তারা। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে ফেরিঘাটের ব্যবসায়ী মেসার্স সৈকত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান ও মান্দা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকে উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওসি। প্রতিবাদকারীদের দাবি, ওসি তাদের বলেন—‘এই কাজ নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন’, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ দেখবে’, ‘আপনারা কেন বাধা দিতে এসেছেন’। এমনকি ‘থানায় কোনো কাজ নিয়ে আসলে বিষয়টি দেখে নেওয়া হবে’ বলেও তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম জানান, হুমকি দেওয়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কল পেয়ে তিনি কেবল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সরকারি উন্নয়নকাজে অযৌক্তিকভাবে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টের উপস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফের কাজ শুরু করে। তখন স্থানীয়রা আবারও কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই অবকাঠামোর প্রতিটি ধাপে অনুমোদিত নকশা ও সিডিউল মানা হচ্ছে কি না, তা প্রকৌশলীদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিও) সুলতানা খানম জানান, দিনের বেলায় যানজট এড়ানো এবং জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতে কিছু কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে নিয়ম অনুযায়ী সিডিউল বহির্ভূতভাবে রাতে কাজ করা সমীচীন নয়। অন্যদিকে প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরিফ দাবি করেন, অনুমোদিত নকশা ও সিডিউল মেনেই কাজ করা হচ্ছে এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে রাতে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সমাধান হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জবাবদিহিতা ও মান নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে পুলিশের পেশাদার আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান তারা।