বাঘায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে, দোকানে গিয়ে বললেন ‘আজ থেকে মুক্ত’
রাজশাহীর বাঘায় পারিবারিক কলহের জেরে যুথি খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই বাড়ির পার্শ্ববর্তী বাজারে গিয়ে ‘আমার আগে-পিছে কেউ নেই, আজ থেকে আমি মুক্ত’ বলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আড়ানী পৌরসভার খোর্দ্দবাউসা গ্রামে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
নিহত যুথি খাতুন খোর্দ্দবাউসা গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলামের (৩৫) স্ত্রী। এই দম্পতির জিহাদ হোসেন (৭) ও জায়ান হোসেন (দেড় বছর) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে কৃষিকাজ শেষে মাঠ থেকে বাড়ি ফেরেন জহুরুল ইসলাম। ওই সময় তাঁর দেড় বছরের শিশুপুত্র জায়ান কান্নাকাটি করছিল। শিশুর কান্না থামাতে স্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এর কিছু সময় আগে ঋণের কিস্তির টাকার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মী এসে বাগবিতণ্ডা ও গালমন্দ করে যান বলে জানা যায়। আর্থিক অনটন, কিস্তির চাপ এবং সন্তানের কান্না ঘিরে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জহুরুল। তিনি খেজুর গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া দিয়ে যুথির ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার পর জহুরুল রক্তমাখা অবস্থাতেই স্থানীয় খোর্দ্দবাউসা বাজারের একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে স্ত্রীকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘আমার আগে-পিছে আর কেউ নেই, আমি আজ থেকে মুক্ত।’ এরপরই তিনি দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
জহুরুল ইসলামের ভাই রুহুল ইসলাম জানান, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চরম আর্থিক সংকট চলছিল। বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির জন্য প্রায়ই কর্মীরা বাড়িতে আসত। ঘটনার আগের দিনই যুথি তাঁর নানার বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছিলেন। দুজনের সম্পর্ক সাধারণত ভালো থাকলেও ঋণের টানাপোড়েন ও উত্তেজনার মুখে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটবে তা কেউ কল্পনা করতে পারেননি।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।