বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীচাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা

favicon
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের তীব্রতা কমে আসায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে জেলা সীমানায় পদ্মা নদীর পানি প্রায় ২০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। নিম্নাঞ্চল ও প্লাবিত বসতভিটা থেকে পানি নামতে শুরু করায় পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতে শুরু করেছে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা তীরবর্তী বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দেওয়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ২১ দশমিক ৫৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় নদীটিতে ধারাবাহিকভাবে পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ফারাক্কা বাঁধের সবকটি জলকপাট উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বসতঘর ছাড়াও বিস্তীর্ণ রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

নদীতে পানি কমতে থাকায় অধিকাংশ বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে এবং আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষ নিজ নিজ বসতবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে গ্রামীণ মেঠোপথ এবং নিচু ফসলি জমিতে এখনো পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ও কৃষিকাজে ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি।

ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে চার হাজার পরিবারের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৪৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইন ও শুকনো খাবারের প্যাকেট নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরও জরুরি বরাদ্দের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, নদ-নদীর পানির স্তর ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় প্লাবিত জনপদের ভোগান্তি দ্রুত দূর হচ্ছে। তবে পানি নামার সময় সাধারণত নদীর পাড়ে তীব্র স্রোত ও ভাঙনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে পদ্মাপাড়ের সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীচাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা

favicon
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের তীব্রতা কমে আসায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে জেলা সীমানায় পদ্মা নদীর পানি প্রায় ২০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। নিম্নাঞ্চল ও প্লাবিত বসতভিটা থেকে পানি নামতে শুরু করায় পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হতে শুরু করেছে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা তীরবর্তী বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দেওয়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ২১ দশমিক ৫৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় নদীটিতে ধারাবাহিকভাবে পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ফারাক্কা বাঁধের সবকটি জলকপাট উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ও নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বসতঘর ছাড়াও বিস্তীর্ণ রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

নদীতে পানি কমতে থাকায় অধিকাংশ বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে এবং আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষ নিজ নিজ বসতবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে গ্রামীণ মেঠোপথ এবং নিচু ফসলি জমিতে এখনো পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ও কৃষিকাজে ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি।

ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে চার হাজার পরিবারের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৪৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, প্রয়োজনীয় খাবার স্যালাইন ও শুকনো খাবারের প্যাকেট নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আরও জরুরি বরাদ্দের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, নদ-নদীর পানির স্তর ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় প্লাবিত জনপদের ভোগান্তি দ্রুত দূর হচ্ছে। তবে পানি নামার সময় সাধারণত নদীর পাড়ে তীব্র স্রোত ও ভাঙনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে পদ্মাপাড়ের সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ভাঙন শঙ্কা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬