দুর্গাপুরে সারের বস্তা গায়েব হওয়ার সংবাদ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর: উপজেলা প্রশাসন
রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবৈধ রাসায়নিক সার উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘সারের বস্তা গায়েব’ সংক্রান্ত সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তথ্যবিকৃত ও বিভ্রান্তিকর বলে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দকৃত সারের প্রতিটি বস্তার সুনির্দিষ্ট গণনা, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ এবং প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা করার পূর্ণাঙ্গ মাস্টাররোল ও নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর উপজেলার কিসমতগণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। সবার উপস্থিতিতে উপস্থিত সার গণনা করে বারান্দা ও ঘরের ভেতর থেকে ৩২৪ বস্তা ডিএপি, ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া এবং ১০০ বস্তা টিএসপিসহ মোট ৬৭০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জব্দকৃত সম্পূর্ণ ৬৭০ বস্তা সার সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়। সার বিক্রির মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্ধারিত রাজস্ব কোডে ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিতরণকৃত সার ও ক্রেতাদের স্বাক্ষরযুক্ত মাস্টাররোল যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, একই দিন পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার কার্তিকপাড়া বাজারে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘নিশি কীটনাশক বিপণি’ নামের দোকানে পৃথক অভিযান চালায় পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন। সেখানে আরও ৩৩০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়। অর্থাৎ একই ব্যক্তির দুর্গাপুরের বাড়ি থেকে ৬৭০ বস্তা এবং পুঠিয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৩০ বস্তাসহ দুই উপজেলায় মোট ১ হাজার বস্তা সার জব্দ হয়েছিল। কিন্তু দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় পুঠিয়া উপজেলার পৃথক অভিযানের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গিয়ে দুর্গাপুর থেকেই ‘৩২৫ বস্তা সার গায়েব’ শিরোনামে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠতাহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম এক লিখিত বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তার কোনো বৈধ ডিলারশিপ বা সার বিক্রির লাইসেন্স ছিল না। তিনি চট্টগ্রাম, যশোর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অননুমোদিতভাবে সার সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে মজুত করে বিক্রি করতেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে কাঠি দিয়ে নির্ভুলভাবে গণনা করেই ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছিল, ফলে সেখানে কোনো হিসাব কম-বেশি হওয়ার অবকাশ নেই। এছাড়া প্রকাশিত সংবাদের পূর্বে তিনি কোনো গণমাধ্যমকর্মীর কাছে কোনো ধরনের বক্তব্য বা জবানবন্দি দেননি বলেও লিখিতভাবে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সামগ্রিক ঘটনাটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং তথ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের লক্ষ্যে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. বেলায়েত হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেছে।