সার সংকটের স্থায়ী সমাধান ও কৃষকদের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
সারাদেশের প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে ও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, চলমান কৃত্রিম সার সংকটের স্থায়ী নিরসন এবং সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন, কৃষক সমিতি এবং রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষক ও প্রয়োজনীয় সার। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। এতে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ে কৃষকেরা যখন মাঠে নামছেন, তখন তাদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি চালানো হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে চরম উদ্বেগজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে কিংবা কৃষকের ন্যায্য কণ্ঠরোধ করে মাঠপর্যায়ের সার সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সংকট আড়াল না করে অবিলম্বে কৃষকদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে দেশজুড়ে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনরত কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বানোয়াট মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে কারাবন্দী সকল কৃষকের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু সম্প্রতি কুড়িগ্রামের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সেখানে সার লুটের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার জন্য মূলত অসাধু ডিলার সিন্ডিকেট দায়ী। মুনাফালোভী ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে সার গুদামে মজুত করে কৃষকদের বঞ্চিত করেছিল। মাঠের ফসল বাঁচাতে নিরুপায় কৃষকেরা গুদামে যেতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর দুর্নীতিবাজ ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল করে শাস্তির আওতায় আনার কথা থাকলেও উল্টো নিরীহ কৃষকদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে ধরপাকড় করা হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কৃত্রিম সংকটের নিরপেক্ষ তদন্ত, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের ওপর প্রশাসনিক নির্যাতন বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির আহ্বায়ক চাষী মাসুম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী অলোক চৌধুরী, রাষ্ট্র সংস্কার কৃষক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জুয়েল, জেডিপির প্রধান সমন্বয়ক আহসান উল্লাহ, ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ব্যঞ্জনা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুনতাসির রহমান, মানবাধিকার কর্মী আব্দুল মজিদ অন্তর, জাতীয় কৃষক শক্তির মুখ্য সমন্বয়ক নাফিউল ইসলাম, বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক সোহেল রানা সম্পদ, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকাশ, মো. রতন ও আব্দুল্লাহ শাহিন।