রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাসিকের মতবিনিময়
রাজশাহী মহানগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে মশকনিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা বিষয়ক’ এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কীটতত্ত্ববিদ, নাগরিক প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশ নিয়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী সমন্বিত কর্মসূচির সূচনা করেছেন। অতীতের কোনো সরকারের আমলে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী এবং তার নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমেই আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে চাই। রাজশাহী নগরীর প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিটি কর্পোরেশন সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার সঙ্গে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব নয়। তাই অন্তত সপ্তাহে একদিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিজ আঙিনা, ছাদ ও বারান্দা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি হিসেবে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে নগরীকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষায় আড়াই লাখ বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, নগরবাসীর সহযোগিতায় তা অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তিনি স্বচ্ছ জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার ও ডাবের খোসা অপসারণে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাসাবাড়িতে সপ্তাহে অন্তত একদিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসগুলোতে সপ্তাহে দুদিন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার। ফুলের টব কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি প্রতি তিন দিন অন্তর অপসারণ করতে হবে। যেসব এলাকায় লার্ভার ঘনত্ব বেশি পাওয়া যাবে, সেখানে দ্রুত ‘হটস্পট ম্যানেজমেন্ট’ বাস্তবায়ন করার ওপর তিনি জোর দেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আজিজুল হক আজাদ জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় রামেক হাসপাতালে ইতোমধ্যে পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। দিনে কিংবা রাতে যেকোনো সময়েই এডিস মশা কামড়াতে পারে। তাই সব সময় মশারি ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে। কেবল উচ্চ তাপমাত্রার জ্বরই নয়, যেকোনো শারীরিক জটিলতা বা অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রাসিকের সচিব মো. সোহেল রানার সঞ্চালনায় সভায় ডেঙ্গুর সার্বিক লার্ভা পরিস্থিতি ও বিস্তার নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কীটতত্ত্বীয় টেকনিশিয়ান মো. আব্দুল বারী। সিটি কর্পোরেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাছমিনা খাতুন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, রামেকের নাক কান গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক, সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মুকিত, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফজলে রাব্বি রেহান, আবাসিক সার্জন ডা. ইফতেখার আলম মাসুম, ইএনটি রেজিস্ট্রার ডা. মোহা. আসফাক হোসেন, রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।