মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দিলকুশাস্থ ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে যান। একই সময়ে পরিচালনা পর্ষদে যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও পূর্ববর্তী বিতর্কিত গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সকালের দিকে উভয় পক্ষ একই স্থানে মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দিলকুশা এলাকার সড়কে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সৃষ্টি হলে সাধারণ পথচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে দিলকুশা এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সংঘর্ষের পর আহতের সংখ্যা ও ঘটনার দায় নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর উন নবী মানিক দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালে পুলিশের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুতরা তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। হামলায় সংগঠনের সহসভাপতি ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি হামলাকারীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফোরাম অভিযোগ করে, ব্যাংককে পুনরায় অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই সাবেক কর্মচারীরা এ অবস্থান নিয়েছেন।
অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে শহিদুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেওয়ার ২০ মিনিটের মাথায় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হন এবং কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
এদিকে মতিঝিল ত্যাগ করার পর চাকরিচ্যুত কর্মচারীদের একটি অংশ পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিলে সেখানেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হওয়ায় তাদের সেখান থেকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।