এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে মাঠে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ
সারাদেশের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ ও রোগী শনাক্তের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার রোধে সমন্বিত ও সর্বাত্মক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জেলার প্রতিটি পুলিশি স্থাপনায় একযোগে এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বর থেকে শুরু করে জেলা পুলিশ লাইন্স, অফিসার্স মেস, পুলিশ ব্যারাক, জেলার সবকটি থানা, ফাঁড়ি ও তদন্তকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। অভিযানের সময় এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, ভবনের ছাদ এবং ড্রেনসহ সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে জমে থাকা পানি অপসারণ ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে মশার লার্ভা ধ্বংসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উপযুক্ত কীটনাশক স্প্রে ও ফগিং করা হয়।
অভিযান চলাকালে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস কেবল দিকনির্দেশনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; তিনি নিজেই ঝাড়ু ও পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম হাতে নিয়ে সরাসরি আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নেন। পুলিশ সুপারের এমন দৃষ্টান্তমূলক অংশগ্রহণ উপস্থিত অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিশেষ উদ্দীপনার সঞ্চার করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. একরামুল হক পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাতসহ জেলা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নেন।
অভিযান শেষে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। নিজের বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্রের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি স্বচ্ছ পানি জমে না থাকে, সেদিকে প্রতিটি পরিবারকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে নিজে সুস্থ থাকুন এবং চারপাশের মানুষকে সুস্থ থাকতে সহযোগিতা করুন।
পুলিশের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে বাহিনীর সদস্যদের আবাসন ও দাপ্তরিক পরিবেশ যেমন রোগমুক্ত থাকবে, তেমনি এটি সাধারণ জনগণের মধ্যেও নিজ নিজ এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা ও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।