রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীস্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’
কনস্টেবল প্রত্যাহার, মিলল সন্দেহজনক ফোনালাপের প্রমাণ

স্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
স্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’
অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তল্লাশি অভিযানের ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ৪০ ভরি গলিত স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি এক মাসের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের সংযোগস্থলে এই সুপরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম জানান, ব্যবসায়িক অর্ডারের অংশ হিসেবে তাঁর ভাইয়ের জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৪০ ভরি ওজনের গলিত স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। চালানটি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় নিঝুমের আপন দুলাভাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের চকআলমপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীকে। মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোহাম্মদ আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীর হাতে স্বর্ণের চালানটি তুলে দেওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলযোগে সেখানে হাজির হন কনস্টেবল জাকির ও তাঁর এক অজ্ঞাত সহযোগী। সেখানে পৌঁছেই তিনি পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তল্লাশির নামে পুরো স্বর্ণের চালানটি জব্দ করার ভান করে জোরপূর্বক নিজের কবজায় নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুমের অভিযোগ, তাঁর আপন দুলাভাই মোহাম্মদ আলী ও ভাগনে মো. নয়ন কনস্টেবল জাকিরের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই সাজানো অভিযানের নাটক সাজিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই ৪০ ভরি স্বর্ণ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করা হয়। পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য জড়িত থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মামলা না করলেও বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করতে থাকেন। সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্বর্ণ হস্তান্তরের কিছু সময় আগেই কনস্টেবল জাকির মোটরসাইকেল নিয়ে কালীনগর ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন।

এদিকে ঘটনার গভীরতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কনস্টেবল জাকির, নয়ন ও তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলীর কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার পূর্বাপর তাঁদের মধ্যে অস্বাভাবিক ও নিবিড় ফোনালাপ হয়েছে। ৬ আগস্ট জাকিরের নম্বর থেকে নয়নের নম্বরে ১০ বার, ৭ আগস্ট ২৫ বার এবং একই দিনে নয়নের বাবার সঙ্গে ৭ বার কথা হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ছিনতাইয়ের দিন অর্থাৎ ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মধ্যে ১০ বার এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের ১১ বার দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। ফোনকলের টাওয়ার লোকেশনেও দেখা গেছে, মোহাম্মদ আলী যখন স্বর্ণ নিয়ে ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন, জাকিরও সেই একই মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সীমানায় অবস্থান করছিলেন। তবে ঘটনার পরদিন থেকেই রহস্যজনকভাবে তাঁদের মধ্যে সমস্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে নিজের উপস্থিতি ও নয়নের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং এটি তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায়িক লেনদেনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। অন্যদিকে স্বর্ণ বহনের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আলী এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তাঁর ছেলে নয়নও পুরো ঘটনায় নিজের নির্দোষিতা দাবি করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছেন। প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তে অপরাধের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’
কনস্টেবল প্রত্যাহার, মিলল সন্দেহজনক ফোনালাপের প্রমাণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীস্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’
কনস্টেবল প্রত্যাহার, মিলল সন্দেহজনক ফোনালাপের প্রমাণ

স্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
স্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’
অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তল্লাশি অভিযানের ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ৪০ ভরি গলিত স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি এক মাসের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার ভিত্তিতে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের সংযোগস্থলে এই সুপরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম জানান, ব্যবসায়িক অর্ডারের অংশ হিসেবে তাঁর ভাইয়ের জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৪০ ভরি ওজনের গলিত স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। চালানটি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় নিঝুমের আপন দুলাভাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের চকআলমপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীকে। মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোহাম্মদ আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীর হাতে স্বর্ণের চালানটি তুলে দেওয়ার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় সাদা পোশাকে মোটরসাইকেলযোগে সেখানে হাজির হন কনস্টেবল জাকির ও তাঁর এক অজ্ঞাত সহযোগী। সেখানে পৌঁছেই তিনি পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং তল্লাশির নামে পুরো স্বর্ণের চালানটি জব্দ করার ভান করে জোরপূর্বক নিজের কবজায় নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিঝুমের অভিযোগ, তাঁর আপন দুলাভাই মোহাম্মদ আলী ও ভাগনে মো. নয়ন কনস্টেবল জাকিরের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই সাজানো অভিযানের নাটক সাজিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই ৪০ ভরি স্বর্ণ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করা হয়। পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য জড়িত থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মামলা না করলেও বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করতে থাকেন। সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্বর্ণ হস্তান্তরের কিছু সময় আগেই কনস্টেবল জাকির মোটরসাইকেল নিয়ে কালীনগর ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন।

এদিকে ঘটনার গভীরতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কনস্টেবল জাকির, নয়ন ও তাঁর বাবা মোহাম্মদ আলীর কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার পূর্বাপর তাঁদের মধ্যে অস্বাভাবিক ও নিবিড় ফোনালাপ হয়েছে। ৬ আগস্ট জাকিরের নম্বর থেকে নয়নের নম্বরে ১০ বার, ৭ আগস্ট ২৫ বার এবং একই দিনে নয়নের বাবার সঙ্গে ৭ বার কথা হয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ছিনতাইয়ের দিন অর্থাৎ ৮ আগস্ট জাকির ও নয়নের মধ্যে ১০ বার এবং মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে জাকিরের ১১ বার দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। ফোনকলের টাওয়ার লোকেশনেও দেখা গেছে, মোহাম্মদ আলী যখন স্বর্ণ নিয়ে ব্রিজের দিকে যাচ্ছিলেন, জাকিরও সেই একই মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সীমানায় অবস্থান করছিলেন। তবে ঘটনার পরদিন থেকেই রহস্যজনকভাবে তাঁদের মধ্যে সমস্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে নিজের উপস্থিতি ও নয়নের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ব্যক্তিগত কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং এটি তাঁদের পারিবারিক ব্যবসায়িক লেনদেনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। অন্যদিকে স্বর্ণ বহনের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আলী এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তাঁর ছেলে নয়নও পুরো ঘটনায় নিজের নির্দোষিতা দাবি করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত জানান, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছেন। প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তে অপরাধের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বর্ণ হস্তান্তরের দুই মিনিটের মাথায় ‘পুলিশি হানা’
কনস্টেবল প্রত্যাহার, মিলল সন্দেহজনক ফোনালাপের প্রমাণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬