রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীশিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা
রাজশাহী আইএইচটির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার বার্তা

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা
রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ক্যাম্পাস।

ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, রাজশাহী (আইএইচটি)-এর এক শিক্ষক ও এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে কথিত ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগকে পুরোপুরি অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌ। তাদের দাবি, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নবীনবরণ সফলভাবে সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখায় একটি রাজনৈতিকভাবে ক্ষুব্ধ মহল পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী আইএইচটিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে একটি নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজন সফল করতে তারা সার্বিক সহযোগিতা করেন। তাদের দাবি, এর আগে ক্যাম্পাসে এত বড় পরিসরে অনুষ্ঠান হয়নি। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে শেষ হওয়ায় একটি পক্ষ চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয় এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তাদের ব্যক্তিগত চরিত্র ও সম্পর্ক ঘিরে মনগড়া তথ্য প্রচার করতে শুরু করে।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ মুঠোফোনে জানান, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ছুটি নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ছুটির কারণ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়, যা কর্তৃপক্ষ ছাড়া তৃতীয় কাউকে জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের নজির ছিল না এবং বর্তমানে যা ছড়ানো হচ্ছে তা অত্যন্ত নোংরা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে জড়িতদের চিহ্নিত করে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও দণ্ডবিধির অধীনে মানহানির মামলাসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অপরদিকে শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌ জানান, তাঁর স্থায়ী বাড়ি পাবনায় এবং তিনি যথাযথভাবে ছুটি নিয়ে বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। পারিবারিক সূত্রে অবস্থান সংক্রান্ত বিভ্রান্তির বিষয়ে মৌ বলেন, তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার কারণে তাঁর বাবা যেকোনো অপরিচিত বা তৃতীয় পক্ষের কাছে মেয়ের অবস্থান প্রকাশ না করাই স্বাভাবিক। এটাকে পুঁজি করে কোনো মহল অপপ্রচার চালালে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর সামাজিক, পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সত্য সবসময় স্পষ্ট, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কোনো অশুভ চক্র তাঁকে দমাতে পারবে না। তিনিও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

উভয়েই দাবি করেন, কারা সুনির্দিষ্টভাবে এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত তা তদন্তে স্পষ্ট হবে। প্রমাণ ছাড়া কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আত্মমর্যাদা কিংবা চরিত্রহননের এই হীন চর্চা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ওঠা কথিত সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা নিরপেক্ষ সত্যতা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট উভয়পক্ষই এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও চরিত্রহনন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে আইএইচটি প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা
রাজশাহী আইএইচটির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার বার্তা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজশাহীশিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা
রাজশাহী আইএইচটির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার বার্তা

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা

favicon
স্টাফ রিপোর্টার:
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা
রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) ক্যাম্পাস।

ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, রাজশাহী (আইএইচটি)-এর এক শিক্ষক ও এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে কথিত ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিষ্ঠানজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগকে পুরোপুরি অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌ। তাদের দাবি, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নবীনবরণ সফলভাবে সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখায় একটি রাজনৈতিকভাবে ক্ষুব্ধ মহল পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী আইএইচটিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে একটি নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজন সফল করতে তারা সার্বিক সহযোগিতা করেন। তাদের দাবি, এর আগে ক্যাম্পাসে এত বড় পরিসরে অনুষ্ঠান হয়নি। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে শেষ হওয়ায় একটি পক্ষ চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয় এবং বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তাদের ব্যক্তিগত চরিত্র ও সম্পর্ক ঘিরে মনগড়া তথ্য প্রচার করতে শুরু করে।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক অসীম কুমার ঘোষ মুঠোফোনে জানান, তিনি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ছুটি নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ছুটির কারণ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়, যা কর্তৃপক্ষ ছাড়া তৃতীয় কাউকে জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের নজির ছিল না এবং বর্তমানে যা ছড়ানো হচ্ছে তা অত্যন্ত নোংরা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ ধরনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে জড়িতদের চিহ্নিত করে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও দণ্ডবিধির অধীনে মানহানির মামলাসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অপরদিকে শিক্ষার্থী মেহেরুন নাহার মৌ জানান, তাঁর স্থায়ী বাড়ি পাবনায় এবং তিনি যথাযথভাবে ছুটি নিয়ে বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। পারিবারিক সূত্রে অবস্থান সংক্রান্ত বিভ্রান্তির বিষয়ে মৌ বলেন, তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার কারণে তাঁর বাবা যেকোনো অপরিচিত বা তৃতীয় পক্ষের কাছে মেয়ের অবস্থান প্রকাশ না করাই স্বাভাবিক। এটাকে পুঁজি করে কোনো মহল অপপ্রচার চালালে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর সামাজিক, পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সত্য সবসময় স্পষ্ট, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কোনো অশুভ চক্র তাঁকে দমাতে পারবে না। তিনিও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

উভয়েই দাবি করেন, কারা সুনির্দিষ্টভাবে এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত তা তদন্তে স্পষ্ট হবে। প্রমাণ ছাড়া কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আত্মমর্যাদা কিংবা চরিত্রহননের এই হীন চর্চা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ওঠা কথিত সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ বা নিরপেক্ষ সত্যতা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট উভয়পক্ষই এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও চরিত্রহনন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে আইএইচটি প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সম্মানহানির চেষ্টা
রাজশাহী আইএইচটির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার বার্তা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬