শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর বিএনপি নেতার দম্ভোক্তি
শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে তিন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, পরবর্তীতে ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আরেক সাংবাদিককে মুঠোফোনে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে ওই বিএনপি নেতা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু।’
মঙ্গলবার সকালে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার সাংবাদিকেরা হলেন-দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান, নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা।
স্থানীয় সাংবাদিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবিতে রবিবার স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এতে সাংবাদিকদের ওপর স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’–এর ব্যানারে জেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের প্রস্তুতি নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে পৌঁছালে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে ওই তিন সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
হামলার কারণ জানতে বিকেলে জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি পলাশ খান বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাকে ফোন করলে তিনি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। ফোনালাপে আরিফুজ্জামান মোল্লা হুমকি দিয়ে বলেন, আরও সাংবাদিককে মারধরের জন্য তালিকা করা আছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অশালীন মন্তব্য করে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু।’
সাংবাদিক পলাশ খান জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সহকর্মীদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুজ্জামান মোল্লা তাঁকেসহ অন্যদেরও মারধরের সরাসরি হুমকি দেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে লিখিত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
হামলা ও হুমকির বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া ও সদর সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পুলিশ অবগত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।