শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের
জবাবদিহিতার মুখে সাবেক প্রশাসন

রুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:
রুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে পুরো দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টিকে নিছক কোনো সাধারণ নির্মাণ ত্রুটি বা অসাবধানতা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই, বরং এটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি এক প্রকার নগ্ন হস্তক্ষেপ।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শেষ ভাগে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে যে অবৈধ পাবলিক টয়লেট এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে, তা এখন পুরো রুয়েট পরিবারের জন্য গভীর অস্বস্তি, লজ্জা এবং ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ক্যাম্পাসের ভেতরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুবিশাল ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক পুরকৌশল অনুষদ (সিই) ভবনের নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই আধুনিক একাডেমিক ভবনের একেবারে গা ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছে ওই বিতর্কিত ও অপরিকল্পিত পাবলিক টয়লেটটি। এর ফলে প্রতিদিন ক্লাস চলাকালীন, ল্যাবরেটরির গবেষণা কার্যক্রমে কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে যাতায়াতকারী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত চরম বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এই অবৈধ স্থাপনা কেবল রুয়েটের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলকেই গুরুতর হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং একটি স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে নির্মমভাবে পদদলিত করেছে।

বর্তমান প্রশাসনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল এই পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ‘ফ্যাসিস্ট আমলের অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত অবৈধ স্থাপনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের মনে যৌক্তিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, জনকল্যাণ বা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থাকতেই পারে, তাই বলে একটি স্বায়ত্তশাসিত উচ্চশিক্ষালয়ের নিরাপত্তা প্রাচীর ভেঙে প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরের ভেতরে সেটি নির্মাণ করা কোন ধরনের নীতিনৈতিকতা বা আইনের মধ্যে পড়ে?

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সচেতন শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্যসহ রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন যে, রুয়েটের ক্যাম্পাসের জমির প্রতিটি ইঞ্চি তাদের পবিত্র আমানত ও অধিকার। অবিলম্বে যদি এই অবৈধ স্থাপনা এবং প্রাচীর সংলগ্ন যত্রতত্র গড়ে ওঠা বিশৃঙ্খল দোকানপাট উচ্ছেদ করা না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। দেশের অন্যতম সেরা এই প্রকৌশল শিক্ষালয়ের হারানো গৌরব, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সার্বিক নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এখন দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থাই একমাত্র অবিকল্প সমাধান।

রুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের
জবাবদিহিতার মুখে সাবেক প্রশাসন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের
জবাবদিহিতার মুখে সাবেক প্রশাসন

রুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের

favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন:
রুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে পুরো দেশজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টিকে নিছক কোনো সাধারণ নির্মাণ ত্রুটি বা অসাবধানতা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই, বরং এটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি এক প্রকার নগ্ন হস্তক্ষেপ।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শেষ ভাগে চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে যে অবৈধ পাবলিক টয়লেট এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে, তা এখন পুরো রুয়েট পরিবারের জন্য গভীর অস্বস্তি, লজ্জা এবং ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ক্যাম্পাসের ভেতরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুবিশাল ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক পুরকৌশল অনুষদ (সিই) ভবনের নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই আধুনিক একাডেমিক ভবনের একেবারে গা ঘেঁষেই তৈরি করা হয়েছে ওই বিতর্কিত ও অপরিকল্পিত পাবলিক টয়লেটটি। এর ফলে প্রতিদিন ক্লাস চলাকালীন, ল্যাবরেটরির গবেষণা কার্যক্রমে কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে যাতায়াতকারী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত চরম বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এই অবৈধ স্থাপনা কেবল রুয়েটের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলকেই গুরুতর হুমকির মুখে ফেলেনি, বরং একটি স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে নির্মমভাবে পদদলিত করেছে।

বর্তমান প্রশাসনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল এই পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ‘ফ্যাসিস্ট আমলের অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত অবৈধ স্থাপনা’ হিসেবে চিহ্নিত করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার্থীদের মনে যৌক্তিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, জনকল্যাণ বা সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থাকতেই পারে, তাই বলে একটি স্বায়ত্তশাসিত উচ্চশিক্ষালয়ের নিরাপত্তা প্রাচীর ভেঙে প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরের ভেতরে সেটি নির্মাণ করা কোন ধরনের নীতিনৈতিকতা বা আইনের মধ্যে পড়ে?

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সচেতন শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্যসহ রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত জোরালো ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন যে, রুয়েটের ক্যাম্পাসের জমির প্রতিটি ইঞ্চি তাদের পবিত্র আমানত ও অধিকার। অবিলম্বে যদি এই অবৈধ স্থাপনা এবং প্রাচীর সংলগ্ন যত্রতত্র গড়ে ওঠা বিশৃঙ্খল দোকানপাট উচ্ছেদ করা না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। দেশের অন্যতম সেরা এই প্রকৌশল শিক্ষালয়ের হারানো গৌরব, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সার্বিক নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এখন দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থাই একমাত্র অবিকল্প সমাধান।

রুয়েটের সীমানা ভেঙে অবৈধ স্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট অপসারণের দাবি শিক্ষার্থীদের
জবাবদিহিতার মুখে সাবেক প্রশাসন
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২১ আগস্ট ২০২৬