মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীহত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়
মসজিদে হামলার ঘটনা

হত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
হত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়

নওগাঁর মান্দায় মসজিদের ভেতরে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনুর রশিদ মামুন (৩৮) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্ষা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের দায়ের করা পূর্বের হত্যাচেষ্টার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

নিহত মামুনুর রশিদ মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল গ্রামের মকছেদ আলী ওরফে কটার ছেলে। গত ১৫ আগস্ট ভোরে ফজরের নামাজ চলাকালে শামুকখোল গ্রামের একটি স্থানীয় মসজিদে তাকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে তার শ্যালক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভোরে ফজরের নামাজ চলাকালীন অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন হাঁসুয়া হাতে মসজিদের বাইরে অবস্থান নেন। জামায়াতে নামাজ শেষ হওয়ার পর তিনি সরাসরি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে মামুনুর রশিদের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালান। হাঁসুয়ার কোপে মামুন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্ত ইসমাইল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মামুনকে উদ্ধার করে দ্রুত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে আইসিইউতে টানা তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে আরও জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে মামুন ও তার শ্যালক ইসমাইলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মনমালিন্য ও বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে ইসমাইল মাদকসংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে তার স্ত্রীর সঙ্গে মামুনের পরকীয়া ও ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং এই ক্ষোভের জের ধরেই এর আগেও মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ও অভিযুক্তের বোন নেহেরা খাতুন বাদী হয়ে নিজ ভাই ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানিয়েছেন যে, আহত ব্যক্তি মারা যাওয়ায় পূর্বের এই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়
মসজিদে হামলার ঘটনা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৮ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীহত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়
মসজিদে হামলার ঘটনা

হত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়

favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
হত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়

নওগাঁর মান্দায় মসজিদের ভেতরে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনুর রশিদ মামুন (৩৮) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্ষা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের দায়ের করা পূর্বের হত্যাচেষ্টার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

নিহত মামুনুর রশিদ মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল গ্রামের মকছেদ আলী ওরফে কটার ছেলে। গত ১৫ আগস্ট ভোরে ফজরের নামাজ চলাকালে শামুকখোল গ্রামের একটি স্থানীয় মসজিদে তাকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে তার শ্যালক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভোরে ফজরের নামাজ চলাকালীন অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন হাঁসুয়া হাতে মসজিদের বাইরে অবস্থান নেন। জামায়াতে নামাজ শেষ হওয়ার পর তিনি সরাসরি মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে মামুনুর রশিদের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালান। হাঁসুয়ার কোপে মামুন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্ত ইসমাইল দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মামুনকে উদ্ধার করে দ্রুত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে আইসিইউতে টানা তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে আরও জানা গেছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিরোধকে কেন্দ্র করে মামুন ও তার শ্যালক ইসমাইলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মনমালিন্য ও বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে ইসমাইল মাদকসংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে তার স্ত্রীর সঙ্গে মামুনের পরকীয়া ও ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং এই ক্ষোভের জের ধরেই এর আগেও মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ও অভিযুক্তের বোন নেহেরা খাতুন বাদী হয়ে নিজ ভাই ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানিয়েছেন যে, আহত ব্যক্তি মারা যাওয়ায় পূর্বের এই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হত্যাচেষ্টার মামলা এবার রূপ নিচ্ছে হত্যা মামলায়
মসজিদে হামলার ঘটনা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৮ আগস্ট ২০২৬