রাজশাহীতে অবৈধভাবে মজুত করা ৪২ বস্তা সার জব্দ ও কৃষকদের মাঝে বিক্রি
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত করার অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ওই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে গুদামজাত করা ৪২ বস্তা সার তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাশের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ধোপাপাড়া বাজারের মেসার্স শাওন এগ্রো নামের সার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির গুদাম তল্লাশি করে কোনো প্রকার অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধ পন্থায় মজুত করা ৩৪ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) এবং ৮ বস্তা ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জব্দকৃত মোট ৪২ বস্তা সার তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাধারণ কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত সরকারি মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অবৈধভাবে সার মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালানোর অপরাধে ভোক্তা অধিকার ও সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাওনকে ৩০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ গণমাধ্যমকে জানান, বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সারের কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।