অবৈধভাবে সার মজুত ও নকল কীটনাশক তৈরি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নকল কীটনাশক তৈরি এবং অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সার মজুত করার অপরাধে মো. সদের আলী (৩৮) নামের এক অসাধু ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাতে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স সদের ট্রেডার্স’ নামের দোকান ও তার সংলগ্ন গোডাউনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সার্বিক সহায়তায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকরামুল হক নাহিদের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো ওই অভিযানে মেসার্স সদের ট্রেডার্সের দোকান এবং গোডাউন থেকে ক্ষতিকারক বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের খালি বোতল, কীটনাশকের খালি প্যাকেট এবং প্যাকেটজাত করার স্বয়ংক্রিয় মেশিন জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক আরেকটি গোডাউন তল্লাশি করে মোট ৩০৭ বস্তা ইউরিয়া, ২৪৪ বস্তা এমওপি, ১৯ বস্তা ডিএপি এবং তিন বস্তা টিএসপি সার অবৈধভাবে মজুত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, দোকানের স্টক রেজিস্ট্রারের সঙ্গে গোডাউনে থাকা প্রকৃত সার বা পণ্যের মজুতের পরিমাণে ব্যাপক অমিল রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ওই সময় সার ও কীটনাশক সংক্রান্ত কোনো বৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ বা হালনাগাদ স্টক রেজিস্টার প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামানের প্রসিকিউশনের ভিত্তিতে এবং অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর অপরাধ স্বীকার করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ধারায় তাকে এই দণ্ড প্রদান করেন।
অভিযানে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ বৈধ সার কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, নকল কীটনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি যথাযথ নিয়মে সংরক্ষণ ও পরবর্তীতে তা ধ্বংস বা নিষ্পত্তির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কঠোর নির্দেশনায় এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।