রাজশাহীতে চার নবজাতক পর্যবেক্ষণে
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিশা খাতুন নামের এক প্রসূতি নারী। জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ায় চার শিশুর কারও ওজনই স্বাভাবিক বা প্রত্যাশিত মাত্রায় নেই। বর্তমানে তাদের হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সন্তান প্রসবকারী তিশা খাতুন রাজশাহী মহানগরীর সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং তার স্বামী মো. নয়ন ইসলাম। পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে হঠাৎ প্রসববেদনা উঠলে প্রসূতি তিশা খাতুনকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি দল তার সফল সিজারিয়ান সেকশন বা অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। অস্ত্রোপচারের পর মধ্যরাতে তিনি একে একে চার সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর পরই নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, জন্ম নেওয়া চারটি শিশুর মধ্যে দুটির ওজন ১ কেজি করে, একজনের ওজন ১ কেজি ১০০ গ্রাম এবং অপর শিশুর ওজন ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। সাধারণত জন্ম নেওয়ার সময় নবজাতকের ওজন দেড় থেকে দুই কেজি হলে তা কিছুটা স্বাভাবিক ধরা হয়ে থাকে। কিন্তু এই শিশুরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পৃথিবীর আলো দেখায় তাদের ওজন আশানুরূপ নয়। তবে বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো বা খারাপ বলা যাচ্ছে না, মাঝামাঝি রয়েছে। শিশুদের সর্বাধুনিক ও নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করার জন্য আজই তাদের হাসপাতালের স্ক্যানু (স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট-SCBU) ইউনিটে স্থানান্তর করা হবে।
একসঙ্গে চার সন্তানের বাবা হতে পেরে আবেগপ্রবণ ও আনন্দিত হয়ে নয়ন ইসলাম বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাকে অশেষ রহমত হিসেবে একসঙ্গে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে দান করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার সন্তানেরা যেন সুস্থ ও সবল থাকে, দেশবাসীর কাছে এই দোয়াই চাই। বড় হয়ে তারা যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে, এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।’