বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীগোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ

গোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত

: গোদাগাড়ী, খাস জমি দখল, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ডহর দখল, ভূমিহীন বন্দোবস্ত, রাজশাহী প্রশাসন
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
গোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত
গোদাগাড়ীর হরিণবিস্কা গ্রামে খাস ডহরের ওপর নির্মিত বিতর্কিত পাকা ভবন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থার আদেশ উপেক্ষা করে জনসাধারণের চলাচলের খাস জমিতে রাতারাতি একতলা পাকা দালান নির্মাণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। হরিণবিস্কা ফরাদপুর গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয় খতিয়ানে ‘ডহর’ বা চলাচলের পথ হিসেবে চিহ্নিত জমি দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকার অন্তত অর্ধশত পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম হরিণবিস্কা ফরাদপুর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে তিনি ও তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন নিজেদের নামে ১৫ শতাংশ খাস ‘ডহর’ বন্দোবস্ত নেন। খাস জমি বন্দোবস্তের নীতিমালা অনুযায়ী কেবল প্রকৃত ভূমিহীনরাই সরকারি খাস জমি পাওয়ার যোগ্য হলেও আনারুল ইসলাম অসত্য তথ্য দিয়ে ভূমিহীন সেজে ওই জমি দখলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্দোবস্তের শর্ত অনুযায়ী উক্ত জমি কেবল চাষাবাদযোগ্য এবং জনস্বার্থে চলাচলের প্রয়োজন হলে তাতে বাধা না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শুরু থেকেই সাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

জমির ওপর জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ২৬ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করেন এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আনারুল ইসলাম তা অমান্য করে দ্রুততম সময়ে ডহরের ওপর বাড়ি সম্প্রসারণ করে পাকা ভবন তৈরি করে ফেলেন।

জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কারণে পেছনের অর্ধশত পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী জানান, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা মারমুখী আচরণ করে এবং হুমকি প্রদর্শন করে। এমনকি উচ্চ আদালতের আদেশের অনুলিপিসহ স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অভিযোগ জানানো হলেও তৎকালীন সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, বিষয়টি সম্প্রতি তাঁর নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার নথি যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৫ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীগোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ

গোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত

: গোদাগাড়ী, খাস জমি দখল, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, ডহর দখল, ভূমিহীন বন্দোবস্ত, রাজশাহী প্রশাসন
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
গোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত
গোদাগাড়ীর হরিণবিস্কা গ্রামে খাস ডহরের ওপর নির্মিত বিতর্কিত পাকা ভবন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থার আদেশ উপেক্ষা করে জনসাধারণের চলাচলের খাস জমিতে রাতারাতি একতলা পাকা দালান নির্মাণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। হরিণবিস্কা ফরাদপুর গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয় খতিয়ানে ‘ডহর’ বা চলাচলের পথ হিসেবে চিহ্নিত জমি দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকার অন্তত অর্ধশত পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিযুক্ত আনারুল ইসলাম হরিণবিস্কা ফরাদপুর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে তিনি ও তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন নিজেদের নামে ১৫ শতাংশ খাস ‘ডহর’ বন্দোবস্ত নেন। খাস জমি বন্দোবস্তের নীতিমালা অনুযায়ী কেবল প্রকৃত ভূমিহীনরাই সরকারি খাস জমি পাওয়ার যোগ্য হলেও আনারুল ইসলাম অসত্য তথ্য দিয়ে ভূমিহীন সেজে ওই জমি দখলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্দোবস্তের শর্ত অনুযায়ী উক্ত জমি কেবল চাষাবাদযোগ্য এবং জনস্বার্থে চলাচলের প্রয়োজন হলে তাতে বাধা না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শুরু থেকেই সাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

জমির ওপর জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ২৬ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করেন এবং নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আনারুল ইসলাম তা অমান্য করে দ্রুততম সময়ে ডহরের ওপর বাড়ি সম্প্রসারণ করে পাকা ভবন তৈরি করে ফেলেন।

জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কারণে পেছনের অর্ধশত পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী জানান, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা মারমুখী আচরণ করে এবং হুমকি প্রদর্শন করে। এমনকি উচ্চ আদালতের আদেশের অনুলিপিসহ স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে অভিযোগ জানানো হলেও তৎকালীন সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, বিষয়টি সম্প্রতি তাঁর নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার নথি যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গোদাগাড়ীতে ভূমিহীন সেজে খাস জমি বন্দোবস্ত
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৫ আগস্ট ২০২৬