রোগীশূন্য নিয়ামতপুরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের শিবপুর বাজারে প্রায় পাঁচ বছর আগে চালু হওয়া ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি কোনো মেডিকেল অফিসার যোগদান না করায় ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের মহৎ উদ্যোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনো সেবাপ্রার্থীর উপস্থিতি নেই। ১০ শয্যার আধুনিক এই হাসপাতালটিতে ইনডোর বা আউটডোরে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা চালু না থাকায় শয্যাগুলো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এমনকি অস্ত্রোপচার কক্ষটিও ধুলোবালি ও ময়লায় ঢেকে রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, চালুর পর থেকে আজ পর্যন্ত এই কেন্দ্রের অপারেশন থিয়েটারে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়নি।
বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফার্মাসিস্ট সুজন কুমার সাহা। তিনি জানান, কেন্দ্রটিতে চালুর পর থেকে কোনো মেডিকেল অফিসার দেওয়া হয়নি। এর ওপর গত তিন মাস ধরে সব ধরনের সরকারি ওষুধ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীরা এসেও চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে এটি সম্পূর্ণ সেবাগ্রহীতাহীন প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, একজন ওয়ার্ড বয় এবং একজন আয়া কর্মরত রয়েছেন। তবে চিকিৎসক ও রোগী না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অলস সময় পার করেই অফিস ত্যাগ করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে গ্রামীণ জনপদে মা ও শিশুর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রটি নির্মিত হলেও সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রসূতি মা ও শিশুদের সাধারণ চিকিৎসার জন্যও তাঁদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা সদরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
শিবপুর বাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজারো মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একজন স্থায়ী মেডিকেল অফিসার পদায়ন এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।