রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিমানের টিকিট সংকট ও অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি
রাজশাহী-ঢাকা আকাশপথে তীব্র ফ্লাইট সংকট, টিকিটের দুষ্প্রাপ্যতা ও অস্বাভাবিক বাড়তি ভাড়ার কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী মুমূর্ষু রোগী, শিক্ষার্থী, নিয়মিত ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে আকাশপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে তাঁদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার এই রুট থেকে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর থেকেই মূলত সংকট ঘনীভূত হয়। বর্তমানে রুটটিতে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েক দিন ফ্লাইট চালাচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতা না থাকা এবং বিকল্পের অভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্বে এই রুটে ইকোনমি ক্লাসের টিকিট ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সেই টিকিটের দাম ৫ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে আসনভেদে ৮ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটতে গেলে বাড়তি ভাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এমনকি এক সপ্তাহ আগে অগ্রিম বুকিং না দিলে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত টিকিট।
চিকিৎসাপ্রার্থী যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীতে যাত্রীর কোনো ঘাটতি নেই। সকাল, দুপুর ও বিকেলে নিয়মিত পর্যাপ্ত ফ্লাইট দেওয়া হলেও আসন পূর্ণ হওয়ার মতো চাহিদা রয়েছে। অথচ সীমিত ফ্লাইটের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। দীর্ঘ সড়ক ও রেলপথের ধকল এড়াতে রোগীরা আকাশপথ বেছে নিতে চাইলেও টিকিটের উচ্চমূল্য ও আসন সংকটে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এদিকে আকাশপথে নিয়মিত সংযোগের এমন টানাপোড়েনের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজশাহীর সম্ভাবনাময় পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে। ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, পুঠিয়া রাজবাড়িসহ বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় স্থানে পর্যটক ও দেশি-বিদেশি গবেষকদের আগমন নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় হোটেল, পরিবহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় মন্দা দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন মহলের দাবি, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে অবিলম্বে সকাল, দুপুর ও বিকেল মিলিয়ে রাজশাহী-ঢাকা রুটে দৈনিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে হবে। একই সাথে নতুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সকে এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় যুক্ত করার পাশাপাশি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার নজরদারি জোরদার করা আবশ্যক।
এ বিষয়ে রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মোছা. দিলারা পারভীন জানান, নভোএয়ার ফ্লাইট গুটিয়ে নেওয়ার পর যাত্রীচাপ ও টিকিটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়ার ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে বিমান সংস্থাগুলোর ভাড়া নির্ধারণ বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে না। নতুন কোনো বেসরকারি বিমান সংস্থা এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি নিলে সংকট অনেকটাই কমে আসবে।