ছাত্রীদের সর্বজনীন উপবৃত্তি ও স্কুলে পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনরায় চালু করার সম্ভাব্যতা বিস্তারিত পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি পুনরায় কার্যকর করতে সম্ভাব্য আর্থিক ব্যয়, উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং দেশের সার্বিক শিক্ষাক্ষেত্রে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বর্তমান কর্মকাণ্ড, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষাজীবন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আর্থিক প্রণোদনার ঐতিহাসিক কার্যকারিতা নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অতীতে চালু থাকা সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির ফলে ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তা বাল্যবিয়ে রোধে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এসব ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই নতুন করে সর্বজনীন উপবৃত্তি যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সাথে ছেলেদের শিক্ষায় অনুপ্রেরণা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি প্রদানের বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে জানানো হয় যে, খাবারের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মিড-ডে মিলের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অংশগ্রহণের কার্যকারিতা নিরূপণে দুটি পৃথক জেলায় দুটি ভিন্ন মডেলের পাইলট প্রকল্প অবিলম্বে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।