রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ

রাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ

নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ

আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই ঘটনায় অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর পরদিন ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটিকে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৩ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নির্দেশনা দেয়। একই দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপির পরিবর্তে ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড’ (ডিপিএম) পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুমোদন দেয়। পাশাপাশি ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোর জন্য ৫ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ১৪৩ জন জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পায় ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বে কর্মরত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় ১৩৭ জন অভিজ্ঞ কর্মীর তালিকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের নতুন করে কর্মস্থলে যোগদান করানো হয়।

তবে এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়োগে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসাইন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই পূর্বে কর্মরত কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো তালিকা করা হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর্থিক লেনদেন করে থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান নেবে না।

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৫ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ২৬ জুলাই ২০২৬
হোমরাজশাহীরাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ

রাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ

নির্বাচন কর্মকর্তা বরখাস্ত
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ

আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই ঘটনায় অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. আনিছুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর পরদিন ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ডিএম আতিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটিকে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৪৩ জন কর্মী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৩ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের নির্দেশনা দেয়। একই দিনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ই-জিপির পরিবর্তে ‘ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড’ (ডিপিএম) পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুমোদন দেয়। পাশাপাশি ৩০ জুনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজশাহী অঞ্চলের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়গুলোর জন্য ৫ জন চালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরীসহ মোট ১৪৩ জন জনবল সরবরাহের দায়িত্ব পায় ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বে কর্মরত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় ১৩৭ জন অভিজ্ঞ কর্মীর তালিকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের নতুন করে কর্মস্থলে যোগদান করানো হয়।

তবে এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়োগে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম হোসাইন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই পূর্বে কর্মরত কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো তালিকা করা হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর্থিক লেনদেন করে থাকলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান নেবে না।

এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজশাহীতে জনবল নিয়োগে ঘুষের অভিযোগে ইসির কঠোর পদক্ষেপ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৫ জুলাই ২০২৬