বাড়িতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী
বগুড়ায় স্বামী কারাগারে থাকার সুযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে তিন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় জড়িত তিন জনের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দুজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নারী মঙ্গলবার রাতে সদর থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম মামলা ও দুজনকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলো- সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত লাল চাঁন ফকিরের ছেলে ও সরকারি আজিজুল হক কলেজের পিয়ন মাহবুবুর রহমান, একই এলাকার আজিজুল সোনারের ছেলে আলমগীর হোসেন এবং মৃত আকবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম। ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার রাতে শহিদুল ও আলমগীরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। অপর অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান পালিয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামী একটি মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কেউ কেউ তাকে বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়েও ধর্ষণ করে। এর ধারাবাহিকতায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
সম্প্রতি ওই নারীর স্বামী জামিনে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে আসেন। স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রশ্ন করলে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলেন। মঙ্গলবার রাতে ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মাহবুবুর রহমান, আলমগীর হোসেন এবং শহিদুল ইসলামকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ আসার আগেই মাহবুবুর পালিয়ে যায়। পরে অপর দুজনকে মারপিট করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী।
আটকের পর অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, তারা চার জন বিভিন্ন সময় ওই নারীকে ধর্ষণ করেছে। কখনও বাড়িতে আবার কখনও বাড়ি থেকে অন্যত্র নিয়েও ধর্ষণ করেছে। তাদের মধ্যে একজন পুলিশের ছেলে আছে। পুলিশের ছেলে হওয়ায় তার বিষয়টি আমলে নেয়নি পুলিশ।
ওই নারীর স্বামী জানান, তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ না করতে অভিযুক্তরা তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ফাঁপোড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবু রায়হান বলেন, ‘স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর তিন জনের মধ্যে একজন পালিয়ে গেছে। অপর দুজন আমার কাছে ওই নারীকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। ধর্ষণে জড়িত আরেকজন আছে। চার জনেরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
সদর থানার পরিদর্শক মাহফুজ আলম বলেন, ‘ধর্ষণে জড়িত তিন জনের নাম এসেছে। আরেকজনের নাম মামলায় উল্লেখ নেই। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ধর্ষণের শিকার নারী মঙ্গলবার রাতে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বুধবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেফতার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’