কাশিমপুর কারাগার থেকে নারী বন্দী পালানোর ঘটনায় ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে নারী বন্দী পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক ও নারী কারারক্ষীসহ সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, বন্দী পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কীভাবে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে একজন বন্দী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
কারা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে মোছা. রিম্পা (২১) পালিয়ে যান। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া একটি মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে কারাগারে ছিলেন।
ঘটনার পর কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দীকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
কারা সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দীকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রিম্পা কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বন্দীর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করা হয়।
এদিকে বন্দী পালানোর ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ঘটনার কারণ, দায়িত্বে অবহেলার বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।