রবিবার , ১৯ জুলাই ২০২৬
হোমসারাদেশসাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির

favicon
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে নির্যাতন, মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং দীর্ঘ ১২ মাস কারাগারে রাখার অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। পুলিশের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণেই তিনি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

‘কক্সবাজার বাণী’ পত্রিকার সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মিডিয়া প্রফেশনালস কাউন্সিল (বিএমপিসি)।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকনাফে কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা পুলিশের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। এসব সংবাদের জেরেই তিনি তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসের বিরাগভাজন হন এবং পরবর্তীতে তাকে একটি মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের দাবি, ওই সময়ে টেকনাফে ওসি প্রদীপের ব্যাপক প্রভাব থাকায় অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার পর ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করলে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনাটিও নতুন করে আলোচনায় আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে আটক করা হয়। পরে তাকে টেকনাফ থানায় নিয়ে তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি, আটকের পর তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তার চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া, মারধর এবং শারীরিক নির্যাতনের পর একটি মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় তিনি প্রায় ১২ মাস কারাভোগ করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কারাগারে থাকাকালীন পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। নির্যাতনের কারণে তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হাত ভেঙে যায় এবং আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিক কর্মজীবনে পুরোপুরি ফিরতে পারেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২০১৯ সালে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ পুলিশের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি তার স্বামীর ওপর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফরিদুল মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের পর পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এতে পরিবারটি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।

ফরিদুল মোস্তফার মেয়ে সুমাইয়া মোস্তফা খান বলেন, “শুধু সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এতে শুধু আমার বাবাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, পুরো পরিবার সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।”

এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং দীর্ঘ কারাভোগের অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মিডিয়া প্রফেশনালস কাউন্সিল (বিএমপিসি)।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানি, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিএমপিসির নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যেন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে নির্যাতন, হয়রানি বা মিথ্যা মামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৮ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ১৯ জুলাই ২০২৬
হোমসারাদেশসাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির

favicon
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে নির্যাতন, মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো এবং দীর্ঘ ১২ মাস কারাগারে রাখার অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। পুলিশের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণেই তিনি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

‘কক্সবাজার বাণী’ পত্রিকার সম্পাদক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মিডিয়া প্রফেশনালস কাউন্সিল (বিএমপিসি)।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকনাফে কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা পুলিশের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। এসব সংবাদের জেরেই তিনি তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসের বিরাগভাজন হন এবং পরবর্তীতে তাকে একটি মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের দাবি, ওই সময়ে টেকনাফে ওসি প্রদীপের ব্যাপক প্রভাব থাকায় অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার পর ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করলে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনাটিও নতুন করে আলোচনায় আসে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে আটক করা হয়। পরে তাকে টেকনাফ থানায় নিয়ে তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি, আটকের পর তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। তার চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া, মারধর এবং শারীরিক নির্যাতনের পর একটি মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই মামলায় তিনি প্রায় ১২ মাস কারাভোগ করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কারাগারে থাকাকালীন পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। নির্যাতনের কারণে তার একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হাত ভেঙে যায় এবং আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিক কর্মজীবনে পুরোপুরি ফিরতে পারেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

২০১৯ সালে ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ পুলিশের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তিনি তার স্বামীর ওপর নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফরিদুল মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের পর পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এতে পরিবারটি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।

ফরিদুল মোস্তফার মেয়ে সুমাইয়া মোস্তফা খান বলেন, “শুধু সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এতে শুধু আমার বাবাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, পুরো পরিবার সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।”

এদিকে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং দীর্ঘ কারাভোগের অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মিডিয়া প্রফেশনালস কাউন্সিল (বিএমপিসি)।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানি, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিএমপিসির নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যেন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে নির্যাতন, হয়রানি বা মিথ্যা মামলার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি বিএমপিসির
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৮ জুলাই ২০২৬