শনিবার , ০৬ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট

রাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট

ভ্যানেই মিলছে বাগানের টাটকা আম-স্বস্তিতে নগরবাসী
favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :
রাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট

আমের মৌসুম এলেই রাজশাহীর বাগান, আড়ত ও পাইকারি বাজারগুলোতে জমে ওঠে বেচাকেনার ব্যস্ততা। তবে চলতি মৌসুমে সেই পরিচিত দৃশ্যের পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে নতুন এক চিত্র। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় ভ্যানে করে সরাসরি আম বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারে না গিয়েই হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু আম।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আম বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। আবার কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়েও চলছে আমের জমজমাট বেচাকেনা। সাধারণত যে মানের আম কিনতে ক্রেতাদের আড়তে গিয়ে ভিড় ঠেলে সংগ্রহ করতে হয়, এখন সেই আমই পৌঁছে যাচ্ছে সরাসরি গ্রাহকের দোরগোড়ায়।

খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতেই জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের আম তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খির্সাপাত (হিমসাগর) আম ৫০ টাকা, গোপালভোগ ৪০ টাকা এবং রানি আম ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বেশি পরিমাণে আম কিনলে ক্রেতাদের জন্য থাকছে বিশেষ ছাড়ও।

ভ্রাম্যমাণ এ বিক্রয় ব্যবস্থা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, নারী ও বয়স্কদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বেশ সুবিধাজনক। সাহেববাজার, শালবাগানসহ বড় পাইকারি বাজারে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় ও ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পারছেন তারা। বাসার সামনে থেকেই পছন্দমতো আম কিনে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

নগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, “আগে আম কিনতে বাজারে যেতে হতো। এখন কাজের ফাঁকে বাসার সামনেই ভ্যান থেকে ভালো মানের আম কিনতে পারছি। দামও খুব বেশি নয়। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বাঁচছে।”

আরেক ক্রেতা সায়েম বলেন, “পাড়া-মহল্লাতেই আম পাওয়া যাচ্ছে, এটা বড় সুবিধা। দেখে-শুনে কিনতে পারছি এবং অনেক ক্ষেত্রে বাজারের তুলনায় কম দামেও পাওয়া যাচ্ছে।”

ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের দাবি, সরাসরি বাগান কিংবা আড়ত থেকে আম সংগ্রহ করায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমে গেছে। ফলে তুলনামূলক কম দামে আম বিক্রি করেও তারা লাভ করতে পারছেন।

আম বিক্রেতা শামিম জানান, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরি। মানুষ এখন বাসায় বসেই আম কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশেষ করে গোপালভোগ ও খির্সাপাত আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দাম কম থাকায় অনেকেই একসঙ্গে চার-পাঁচ কেজি করে আম কিনছেন।”

অন্যদিকে সরদার নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, “রাজশাহীতে প্রচুর আম উৎপাদন হয়। মৌসুমজুড়ে আমরা অস্থায়ীভাবে দোকান ও ভ্যানে আম বিক্রি করি। আম থাকা পর্যন্ত এই বেচাকেনা চলবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহানগরীতে ভ্রাম্যমাণ আম বিক্রির এই উদ্যোগ আম বিপণনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে যেমন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত আম বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি সাধারণ ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে মৌসুমি ফল সংগ্রহ করতে পারছেন। পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ মৌসুমি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছেন।

স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরাসরি ভোক্তার কাছে আম পৌঁছে দেওয়ার ফলে পরিবহন ও সংরক্ষণজনিত অপচয় কমছে। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাবও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। এতে উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন।

রাজশাহী মহানগরীর প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন নিয়মিত দেখা মিলছে আমভর্তি ভ্যানের। আমপ্রেমীদের জন্য এটি যেমন স্বস্তির খবর, তেমনি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী আমকে আরও সহজলভ্য করে তুলছে এই ভ্রাম্যমাণ বিপণন ব্যবস্থা। ফলে মৌসুমের ভরা সময়ে নগরীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে রাজশাহীর বিখ্যাত আমের স্বাদ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় মোট ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদিত আম বিক্রি করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ-উভয় ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড গড়তে পারে রাজশাহীর আম শিল্প।

রাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৫ জুন ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ০৬ জুন ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট

রাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট

ভ্যানেই মিলছে বাগানের টাটকা আম-স্বস্তিতে নগরবাসী
favicon
মো: নুরে ইসলাম মিলন :
রাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট

আমের মৌসুম এলেই রাজশাহীর বাগান, আড়ত ও পাইকারি বাজারগুলোতে জমে ওঠে বেচাকেনার ব্যস্ততা। তবে চলতি মৌসুমে সেই পরিচিত দৃশ্যের পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে নতুন এক চিত্র। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় ভ্যানে করে সরাসরি আম বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারে না গিয়েই হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু আম।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আম বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। আবার কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়েও চলছে আমের জমজমাট বেচাকেনা। সাধারণত যে মানের আম কিনতে ক্রেতাদের আড়তে গিয়ে ভিড় ঠেলে সংগ্রহ করতে হয়, এখন সেই আমই পৌঁছে যাচ্ছে সরাসরি গ্রাহকের দোরগোড়ায়।

খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতেই জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের আম তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খির্সাপাত (হিমসাগর) আম ৫০ টাকা, গোপালভোগ ৪০ টাকা এবং রানি আম ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বেশি পরিমাণে আম কিনলে ক্রেতাদের জন্য থাকছে বিশেষ ছাড়ও।

ভ্রাম্যমাণ এ বিক্রয় ব্যবস্থা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, নারী ও বয়স্কদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে বেশ সুবিধাজনক। সাহেববাজার, শালবাগানসহ বড় পাইকারি বাজারে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় ও ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পারছেন তারা। বাসার সামনে থেকেই পছন্দমতো আম কিনে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

নগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, “আগে আম কিনতে বাজারে যেতে হতো। এখন কাজের ফাঁকে বাসার সামনেই ভ্যান থেকে ভালো মানের আম কিনতে পারছি। দামও খুব বেশি নয়। এতে সময় ও যাতায়াত খরচ দুটোই বাঁচছে।”

আরেক ক্রেতা সায়েম বলেন, “পাড়া-মহল্লাতেই আম পাওয়া যাচ্ছে, এটা বড় সুবিধা। দেখে-শুনে কিনতে পারছি এবং অনেক ক্ষেত্রে বাজারের তুলনায় কম দামেও পাওয়া যাচ্ছে।”

ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের দাবি, সরাসরি বাগান কিংবা আড়ত থেকে আম সংগ্রহ করায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমে গেছে। ফলে তুলনামূলক কম দামে আম বিক্রি করেও তারা লাভ করতে পারছেন।

আম বিক্রেতা শামিম জানান, “সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরি। মানুষ এখন বাসায় বসেই আম কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশেষ করে গোপালভোগ ও খির্সাপাত আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দাম কম থাকায় অনেকেই একসঙ্গে চার-পাঁচ কেজি করে আম কিনছেন।”

অন্যদিকে সরদার নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, “রাজশাহীতে প্রচুর আম উৎপাদন হয়। মৌসুমজুড়ে আমরা অস্থায়ীভাবে দোকান ও ভ্যানে আম বিক্রি করি। আম থাকা পর্যন্ত এই বেচাকেনা চলবে।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহানগরীতে ভ্রাম্যমাণ আম বিক্রির এই উদ্যোগ আম বিপণনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে যেমন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত আম বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি সাধারণ ভোক্তারাও ন্যায্যমূল্যে মৌসুমি ফল সংগ্রহ করতে পারছেন। পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত বেকার তরুণ মৌসুমি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছেন।

স্থানীয় আম ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরাসরি ভোক্তার কাছে আম পৌঁছে দেওয়ার ফলে পরিবহন ও সংরক্ষণজনিত অপচয় কমছে। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাবও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। এতে উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—তিন পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন।

রাজশাহী মহানগরীর প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন নিয়মিত দেখা মিলছে আমভর্তি ভ্যানের। আমপ্রেমীদের জন্য এটি যেমন স্বস্তির খবর, তেমনি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী আমকে আরও সহজলভ্য করে তুলছে এই ভ্রাম্যমাণ বিপণন ব্যবস্থা। ফলে মৌসুমের ভরা সময়ে নগরীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে রাজশাহীর বিখ্যাত আমের স্বাদ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় মোট ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ বছর ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদিত আম বিক্রি করে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ-উভয় ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড গড়তে পারে রাজশাহীর আম শিল্প।

রাজশাহীর অলিগলিতে আমের হাট
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৫ জুন ২০২৬